Alipurduar News : শকুনের বংশবৃদ্ধি করতে ডিম চুরি করবে বনদফতর – alipurduar forest department will steal eggs to breed vultures


এই সময়, আলিপুরদুয়ার:শকুনের ডিম ‘চুরি’ করবেন প্রাণিবিদরা! তাতেই নাকি হবে বংশবৃদ্ধি! না, কোনও তন্ত্রমন্ত্র বা কালাজাদুর কুসংস্কারের গল্প নয়। এমনটাই হতে চলেছে রাজ্যের এক মাত্র শকুন প্রজনন কেন্দ্র রাজাভাতখাওয়াতে। সেখানে এ বার চালু হতে চলেছে ‘ডবল ক্লাচিং সিস্টেম’। এই মর্মে ইতিমধ্যেই বন দপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
কী এই বিশেষ পদ্ধতি?
শকুনদের জীবনশৈলী অনুসারে প্রতিটি মাদি শকুন বছরে মাত্র একটিই ডিম পারে। ফলে শকুনদের বংশবৃদ্ধির হার খুবই কম। কিন্ত গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে ডিম পারা শকুনদের ডিম সরিয়ে নিলেই, ওই মাদি শকুন ফের ডিম পারে। সরিয়ে নেওয়া ডিমটিকে ‘ডবল ক্লাচিং সিস্টেম’ প্রয়োগ করে ‘ইনকিউবেটরে’ সংরক্ষণ করে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করা হয়। অন্য দিকে, প্রথম ডিম হারিয়ে শকুনটি দ্বিতীয় বার ডিম পারে। সেই ডিম ফুটেও বাচ্চা হয়। ফলে একটি মাদি শকুনের কাছ থেকে বছরে একটির পরিবর্তে, দু’টি বাচ্চা পাওয়া সম্ভব হয়। তাতে শকুনদের বংশবৃদ্ধিতে অনেক বেশি গতি আসে। এই অত্যাধুনিক প্রজনন পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দপ্তর।

Alipurduar News : বিলুপ্ততার শঙ্কায় ‘শকুনি দৃষ্টি’! এক ঝাঁক বিরল প্রজাতির শকুন ফিরল আকাশে
রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ সৌম্য চক্রবর্তী বলেন, ‘ডবল ক্লাচিং সিস্টেমের সফল প্রয়োগে শকুনদের বংশবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চারিত হবে। আমরা আশাবাদী দ্রুত ওই কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি রাজাভাতখাওয়ায় চালু করা সম্ভব হবে।’ শুক্রবার এই প্রজনন কেন্দ্র থেকে ১৩টি হোয়াইট ব্যাক্‌ড শকুন প্রকৃতিতে উন্মুক্ত করার পর বন দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বনকর্তারা। এই নিয়ে মোট তিন ধাপে দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণে ৩১টি হেয়াইট ব্যাক্‌ড প্রজাতির শকুনকে প্রকৃতিতে ছাড়া হলো। এছাড়াও রাজাভাতখাওয়ার কৃত্রিম অ্যাভিয়ারিতে রয়েছে পৃথিবী থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসা স্লেন্ডার বিল্ড, লং বিল্ড প্রজাতির শকুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই শকুনদেরও প্রকৃতিতে ফেরানো হবে। এছাড়াও এখানে রয়েছে হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির শকুন। ছেড়ে দেওয়া শকুনদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আমেরিকা থেকে আমদানি করা ‘প্ল্যাটফর্ম ট্রান্সমিটার টারমিনাল’। যা প্রতিস্থাপন করা হয় শকুনদের ডানায়।

Digha Beach: দিঘার নয়া আকর্ষণ, নীল তিমির চোয়াল থেকে লায়ন ফিশ নিয়ে তৈরি নয়া সংগ্রহশালা
দেশের অন্যতম শকুন সংরক্ষক সংস্থা বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির বিজ্ঞানী সচিন রাণাডে বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, সারা বিশ্বে গবাদি পশুদের দেহে ব্যথা উপশমের ওষুধ হিসেবে অবৈজ্ঞানিক ভাবে অতিরিক্ত পরিমাণে ডাইক্লোফেনাক ব্যবহারের ফলে শকুনরা আজ প্রায় অবলুপ্তির পথে, কারণ মৃত গবাদি পশুদের মাংস খাওয়ার ফলে, মাংসে মিশে থাকা ডাইক্লোফেনাক শকুনদের কিডনি বিকল করে দেয়। কিন্তু প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ঝাড়ুদার পাখিদের ভূমিকাকে অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। স্বাভাবিক কারণেই তাদের সংরক্ষণ এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। যার জন্য ‘ডবল ক্লাচিং সিস্টেম’ একটি অত্যাধুনিক প্রজনন পদ্ধতি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *