Valentine’s Day 2023 : ‘তোমাকেই মনে ধরেছে তাই…’, কেমন ছিল উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতার প্রেমকাহিনি? – valentines day 2023 here are some of the love stories of 19 century kolkata


উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের ঘটনা। চারিদিকে ছিঃ ছিঃ রব! বর্ধমানের প্রয়াত জমিদার তেজচন্দর বিধবা কনিষ্ঠা স্ত্রী কমলকুমারী তাঁর উকিলের সঙ্গে পালিয়ে কলকাতায় চলে এসেছেন। ভালোবাসার পাত্র হলেন পাথুরিয়াঘাটা ঠাকুরবাড়ির দৌহিত্র, ‘জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকার মালিক, ডিরোজিও-র চেলা, ইয়ং বেঙ্গলের অন্যতম বাবু দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।

Chocolate Day 2023 : ‘ফর সামওয়ান ইউ লাভ…’, ভ্যালেনটাইন্স ডে-র সঙ্গে কী ভাবে জড়িয়ে গেল রঙিন মোড়কের চকোলেট?
ওই ঘটনার পিছনে রয়েছে বর্ধমান জমিদার পরিবারের এক আলোড়ন তোলা কাহিনি। বর্ধমানের জমিদার রাজা তেজচাঁদ বাহাদুরের ছ’-ছ’টা বউ থাকলেও কোনও পুত্রসন্তান ছিল না। শেষে এক রানি নানকিকুমারীর গর্ভে ১৭৯১-এ এক পুত্রসন্তান জন্মাল। নাম প্রতাপচাঁদ। প্রতাপের জন্মের অল্পদিন পরেই মৃত্যু হয় নানকিদেবীর। ম-মরা প্রতাপ আদরে, প্রশ্রয়ে বড়ো হতে থাকে ঠাকুরমা বিষ্ণুকুমারীর কাছে। রাজা তেজচাঁদ খুবই উৎশৃঙ্খল জীবন যাপন করতেন। ১৮১৩ সাল নাগাদ শরীর খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাজকার্য থেকে নিজেকে সরিয়ে প্রতাপচাঁদকে জমিদারি দেখার কাজে নিয়ে এলেন। কিন্তু সমস্যা হল অন্য জায়গায়। তেজচাঁজ বৃদ্ধ বয়সে বিয়ে করেছিলেন রাজবাড়ির দেওয়ান পরাণচাঁদ কাপুরের বোন যুবতী কমলকুমারীকে। রাজার অসুস্থতার কারণে জমিদারির দখল অনেকটাই চলে গিয়েছিল কমলকুমারী ও তাঁর ভাই পরাণচাঁদের হাতে। স্বাভাবিক কারণেই প্রতাপের সঙ্গে তাদের বিরোধ আরম্ভ হল। প্রাণভয়ে প্রতাপ চলে এলেন কালনাতে এবং সেখানেই ১৮২১-এ তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হল। ১৮৩২-এ মারা গেলেন তেজচাঁদ।

Valentine’s Day 2023 : ‘…সে কি কেবলই যাতনাময়’, ভালোবেসে মৃত্যুকেও আলিঙ্গন করেছেন যাঁরা
এ বার বার গোল বাঁধল রাজ পরিবারের মধ্যেই। শেষ বয়সে তেজচন্দরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল কমলকুমারীর ভাইঝি বসন্তকুমারীরও। তেজচাঁদের শেষ জীবিত দুই বউ কমলকুমারী ও বসন্তকুমারী সম্পর্কে পিসি-ভাইঝি। বয়সে বড়ো হওয়ায় কর্তৃত্ব কমলকুমারীর হাতেই। বসন্তকুমারীও ছেড়ে দেবার পাত্রী নন। অন্য দিকে বছর দুই পরে অল্‌খ শাহ নামে এক ফকির-সন্ন্যাসী এসে নিজেকে প্রতাপচাঁদ বলে দাবি করে জমিদারি সিংহাসনের জন্য মামলা করলেন। মামলা চলল কয়েক বছর ধরে। শেষ অবধি দেওয়ান পরাণচাঁদ কাপুরের ষড়যন্ত্রে কোম্পানির আদালত অল্‌খ শাহকে বর্ধমানের রাজকুমারের মান্যতা দিল না। তিনি ‘জাল প্রতাপচাঁদ’ নামে চিহ্নিত হলেন সকলের কাছে।

Promise Day 2023 : ‘বাসবে কথা দাও…’, জেন ওয়াইকে প্রমিস রাখতে শেখাতে পারলেন কম্পনা দত্ত-ডিম্পল চিমারা?
একদিকে যখন মামলা চলছে, অন্যদিকে রাজবাড়িতে দুই সতীনের দ্বন্দ্ব তখন চরমে। এমন অবস্থায় তেজচন্দ্রের বিধবা ছোটরানি বসন্তকুমারী নিজের সম্পত্তির ভাড়া আদায়ের জন্য যে তিনজনকে অছি নিযুক্ত করলেন, তাঁদের একজন হলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়। সেই সূত্রেই অন্তরঙ্গতা এবং প্রেম। গোড়ায় পালাতে গিয়ে ধরা পড়েন দু’জনে। কিন্তু ওই যে কথায় বলে, ‘মিঞা-বিবি রাজি তো কেয়া করেগা কাজি!’ শেষে আদালতে মামলা লড়ার অজুহাতে দু’জনেই চলে এলেন কলকাতায়। এখানে এসে দক্ষিণারঞ্জনের সঙ্গে সিভিল ম্যারেজ আইনে বিবাহ হল বসন্তকুমারীর। পূর্ণতা পেল দক্ষিণারঞ্জন-বসন্তকুমারীর ভালোবাসা।

উনিশ শতকের আরও একটা ভালোবাসার কাহিনির দুই নায়ক-নায়িকা ছিলেন দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় ও এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী বসু গঙ্গোপাধ্যায়। সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের সদস্য দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা-সংস্কৃতি বিস্তারে উদ্যোগী ছিলেন। ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ করলে হিন্দু পরিবার থেকে যে সব ছেলেদের তাড়িয়ে দেওয়া হত, দ্বারকানাথ তাদের এনে নিজের ১৩ নম্বর কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের বাড়িতে আশ্রয় দিতেন আর ‘অবলাবান্ধব’ নামে একটা পত্রিকা প্রকাশ করতেন।

Propose Day 2023 : দুরুদুরু বুক-কাঁপা হাঁটু, যুগে যুগে ‘অ্যাই শুনছ’-র পদ্ধতি বদলালেও অটুট অনুভূতিটা
বরিশালের চাঁদসি গ্রামের সাবেক বাসিন্দা ব্রজকিশোর বসু থাকতেন ভাগলপুরে। দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। স্কুলের পড়া শেষ করে ব্রজকিশোরের কন্যা কাদম্বিনী দ্বারকানাথের উৎসাহেই কলকাতায় এসে প্রথমে তৎকালীন কলকাতায় হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন ও সেখানকার পাঠ শেষ করে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বেথুন কলেজে থেকে চন্দ্রমুখী বসুর সঙ্গে যুগ্মভাবে স্নাতক হন। কাদম্বিনী বসু তার পর কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন পাশ্চাত্য রীতির চিকিৎসাবিদ্যা শেখার জন্য এবং শেষ অবধি ‘গ্রাজুয়েট অব বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ’ শংসাপত্র পেয়ে এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসকের সম্মান অর্জন করেন। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির পর বিপত্নীক দ্বারকানাথ বয়সে অনেকটাই ছোট কাদম্বিনীকে বিয়ে করেন। মূলত তাঁর উৎসাহ ও সহযোগিতার জন্যেই কাদম্বিনী সে যুগের অন্যতম সেরা চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিলেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *