কারন ঘটনাস্থল থেকে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত খুব একটা দূরে নয়। শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ লাইনের কিছুটা দূরেই একটি হোটেল আছে। সেই হোটেলেই ঘটে শ্যুটআউটের ঘটনা।
হোটেল মালিক অরবিন্দ ভগৎকে লক্ষ্য করেই গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তড়িঘড়ি তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হোটেলে লাগানো CCTV ক্যামেরায় ধরা পড়েছে গুলি চালানোর হাড়হিম দৃশ্য।
দুষ্কৃতীদের খুঁজতে নাকা চেকিং শুরু করেছে পুলিশ। ঝাড়খণ্ড সীমানায় রয়েছে পুলিশের বিশাল বাহিনী। প্রতিটি গাড়ি, লরি, ট্রাক এমনকি বাইকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভবানীভবন থেকে CID-র ৬ জনের একটি দল আসানসোলে পৌঁছেছে। হোটেলে গিয়ে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখেছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
CCTV ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, যখন এই ঘটনা ঘটে তখন হোটেলের লবিতে বসে অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন অরবিন্দ। CID-র আধিকারিকরা হোটেলের অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি সেই মুহূর্তের ওই দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গেও কথা বলেছেন তাঁরা।
আলাদা করে কথা বলা হয়েছে সেই সময়ে হোটেলে উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গেও। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই শ্যুটআউটের ঘটনার পিছনে অন্য কেউ রয়েছে বলেও সন্দেহ পুলিশের।
মৃত হোটেল মালিক দুর্গাপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বেশ কিছু ব্যবসার সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই বিষয়েও খোঁজ খবর চালাবে CID-র এই বিশেষ দল, সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
আশেপাশের এলাকার সমস্ত CCTV ফুটেজ স্ক্যান করে দেখা হচ্ছে যে ওই দুই বন্দুকবাজ কোনদিকে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, CID ও পুলিশ সমান্তরালভাবে এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাবে।
