দেড় বছর বাদে ছেলের সঙ্গে দেখা
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পর ছেলে বাড়িতে ফেরায় আনন্দে দিশেহারা অনিমেষের মা বাবা ও বোন। শ্যামপুরের একটি সিনেমা হলের উল্টোদিকে অনিমেষের বাবার চানা মশলা ও চায়ের দোকান। সেই দোকানে বাবার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার ফাঁকেই দেশ ভ্রমণের ইচ্ছে মাথায় চেপে বসে অনিমেষের। যেমন ভাবা তেমন কাজ ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে অনিমেষ। ছত্তিশগড়, ওশিয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু সহ একের পর এক রাজ্য ঘুরে অবশেষে বুধবার বাড়ি ফিরছে অনিমেষ মাজি।
২৫ হাজার কিলোমিটার শুধু দু চাকায়
অনিমেষ জানায়, ”ভারতবর্ষ কতটা সুন্দর সেটা সকলের কাছে তুলে ধরতে আমার এই ভ্রমণ। সে জানায় দেড় বছরের এই ভ্রমণ কালে আমি যেমন বিভিন্ন দ্রষ্টব্য স্থান ঘুরেছি সেইরকম বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে থেকেছি। তাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। অনিমেষ জানায়, ”ভ্রমণ চলাকালীন একদিকে যেমন জঙ্গলে রাত কাটাতে হয়েছে সেই রকম পাহাড় বরফ এমনকি ফাঁকা মাঠে ও রাতে ঘুমাতে হয়েছে। ” অনিমেষ জানান, অজানা এই পথে পাড়ি দেওয়ার সময় শ্যামপুরের অনেক দাদাই তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল। তবে নিজের চলার পথে নিজের আর্থিক সমস্যা মেটাতে নিজের উপর ভরসা করে বিভিন্ন জায়গায় ৬/৭ দিন করে টুকটাক কাজ করে করে পয়সা উপার্জন করেছি।
সাইকেলই কেন?
সাইকেলে এই দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা সম্পর্কে অনিমেষ জানায়, টাকা জমিয়ে বাইক কিনে দেশ ভ্রমণ করতে অনেক দেরি হয়ে যেত সেই কারণে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে অনিমেষ জানায় এখনই সে ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা নেই তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো পরিকল্পনা থাকলেও থাকতে পারে বলে জানায় শ্যামপুরের যুবক অনিমেষ মাজি।
