পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উমেশ সাউ নামের এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভাটপাড়া থানার পুলিশ। যে যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা বিষয়টি জানার চেষ্টা করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুলি চালানোর সময় উমেশ কাকিনাড়া ফলহারা মন্দিরে বসে ছিলেন। সেই সময় দুই দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে। এরপরই উমেশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক দুষ্কৃতী। কোনও কারণে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান ওই যুবক। যদিও পুলিশের দাবি, বন্দুক বের করলেও গুলি চালানোর কোনও ঘটনা ঘটেনি।
আক্রান্ত উমেশের সাউয়ের ভাই এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উমেশ রায় নামে এক ব্যক্তির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “গঙ্গাঘাটের পাশে মন্দিরে বসে থাকার সময় আমার দাদার উপর আক্রমণ হয়। উমেশ রায়ের ছেলেরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। আমার দাদার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হতেই গুলি চালানো হয়। উমেশ রায় তৃণমূল করেন।”
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে একের পর এক এই ধরনে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেই চলেছে। বুধবার দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খড়দা পুরসভার অন্তর্গত রহড়া এলাকা। সেখানে ববি নামে এক যুবককে খুনের উদ্দেশে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তবে কোনও কারণে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে দুষ্কৃতী দলের এক সদস্যের পায়ে লাগে। তাঁকে তুলে নিয়ে এলাকা থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকে গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করে দেখেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, পূর্বের কোনও শত্রুতার জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
উল্লেখ্যে রাজ্যে একের পর এক গুলি চালনার ঘটনা ঘটেই চলেছে। আসানসোল, গোয়ালপোখর, জগদ্দল, হুগলি, রহড়া পর শ্যুটআউটের তালিকায় নয়া সংযোজন ভাটপাড়া। এই ঘটনায় এলাকায় এখনও যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে।
হুগলির পাণ্ডুয়া থানা এলাকায় জিটি রোডের উপর এক গাড়ি চালককে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশে তাঁকে গুলি করে খুন করে আততায়ীরা। এই ঘটনায় বিহারের বাসিন্দা দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও দু’জনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। কোনও বড় অপরাধের উদ্দেশে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের।
