মহিষাদল রাজবাড়িকে কেন্দ্র করে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ভাবনা-চিন্তা শুরু করলেন সরকারি শীর্ষ আধিকারিকরা। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে আড়াইশো বছরের প্রাচীন এই রাজমহল। সারা বছর ধরে রাজ্য, ভিন রাজ্য এমনকি ভিন দেশের বহু পর্যটকের আনাগোনা ঘটছে।
রাজবাড়িকে ঘিরে যাতে আরও সুন্দর কিছু গড়ে তোলা যায় তার জন্য শুক্রবার এডিএম (LR) অনির্বাণ কোলে এবং ডি আর ডি সির নীলাঞ্জন ভাট্টাচার্য, জেলার দুই উচ্চ পদস্থ আধিকারিক পরিদর্শনে আসেন। এদিন তাঁরা প্রথমে মহিষাদল রাজবাড়ির ফুলবাগ রাজপ্যালেসে যান। সেখানে সমস্তকিছু দেখার পর পাশেই রাজবাড়ির কুলদেবতা গোপালজিউ মন্দির পরিদর্শন করেন।
পাশাপাশি, রাজবাড়ির আম্রকুঞ্জ, পুষ্করিণী সহ বিস্তীর্ণ এলাকাও ঘুরে দেখেন তাঁরা। মহিষাদল রাজবাড়িকে ঘিরে যাতে আরও বেশি করে সৌন্দর্য্যায়নের কাজ করা যায়, তার আবেদন জানিয়েছিযেন স্থানীয় বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী। সেই আবেদনের সাড়া দিয়ে এদিন আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শনে আসেন।
রাজ্য পর্যটন দফতরের কয়েক একর জায়গা রয়েছে মহিষাদল রাজবাড়ির আনাচে-কানাচে। সেই সমস্ত জায়গায় রাজ্য সরকার পর্যটক উপযোগী কিছু গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সে কারণেই এদিনের এই পরিদর্শন কর্মসূচি বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন হলদিয়া মহকুমা শাসক সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায়, মহিষদলের বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী, বিডিও যোগেশচন্দ্র মণ্ডল, কর্মাধ্যক্ষ মানসকুমার পণ্ডা, সেখ রহমান সহ অন্যান্যরা।
মহিষাদলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা মহিষাদল রাজবাড়িকে ঘিরে উন্নতমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠুক। সেই প্রত্যাশা কি এবার পূরণ হতে চলেছে? তা সময়ই বলবে। পরিদর্শনে আসা আধিকারিকরা জানান, মহিষাদল রাজবাড়িকে ঘিরে পর্যটকদের জন্য কী কী গড়ে তোলা যায় তার সবুজ সিগন্যাল জেলায় এসেছে।
এরপরেই জায়গা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতেই পরিদর্শনে আসা। উল্লেখ্য, মোঘল আমলে সম্রাট আকবরের সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে আসীন ছিলেন তৎকালীন ব্রাহ্মণ ব্যবসায়ী জনার্দন উপাধ্যায়। কর্মসূত্রে নদী পথে গেঁওখালিতে এসেছিল তিনি। বাংলার শোভা দেখে মুগ্ধ হন। তৎকালীন কাছ থেকে কিনে নেন মহিষাদলের রাজত্ব। তৈরি হয় রাজপ্রাসাদ।
