মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য: বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ মুকুল রায়। রাজনীতির ময়দানে এখন তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না। অসুস্থতার কারণে রবিবার তাঁকে ভর্তি করা হল ইএম বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে। গত শুক্রবারই তিনি হাসপাতালে এসে শারীরিক পরীক্ষা করান বলে খবর।
আরও পড়ুন-সমবায়ের ভোটে এগরায় খাতাই খুলতে পারল না তৃণমূল, তাজপুরে হোয়াইটওয়াশ বিরোধীরা
বাইপাসের ধারে ওই হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্নায়বিক সমস্যা বাড়ায় তাঁকে আজ রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ডা সঞ্জয় সিংয়ের তত্ত্বাবধানে। তবে জানা যাচ্ছে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
এক সময় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডকে বর্তমানে রাজনীতিতে দেখাই যায় না। ২০১৫ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে লড়াই করে কৃষ্ণনগর থেকে জিতে আসেন। তবে ভোটের কিছুদিন পরেই অভিষেক উপস্থিতিতে তৃণমূল ভবনে ফের ঘাসফুল শিবিরে ফেরেন মুকুল। তবে তার পরই তাঁর শিবিরে নিয়ে তৈরি হয় টানাপোড়েন। মকুলের বিধায়ক পদ বাতিলের দাবি করে বিজেপি।
তৃণমূলে যোগ দিলেও তাঁর অসংলগ্ন মন্তব্য শোরগোল ফেলে দিয়েছিল রাজনীতিতে। বীরভূমে গিয়ে অনুব্রতর সামনে তিনি মন্তব্য করে বসেন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। মুকুল অসুস্থ বলে কোনওক্রমে তা সামাল দেন অনুব্রত মণ্ডল। তার আগে কৃষ্ণনগরেও একবার নিজেকে বিজেপি নেতা হিসেবে দাবি করেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেন তৃণমূল পরাজিত হবে।
২০২১ সালে স্ত্রী মারা যাওয়ার পরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মুকুল রায়। শরীরও কিছুটা ভেঙে পড়ে। সেইসময় থেকেই তাঁর কথায় কিছুটা অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, এমনটাই দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠদের। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরেও স্নায়ুর সমস্যার জন্য তাঁকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেইসময় তাঁর খুঁটিয়ে পরীক্ষা হয়। তার পর থেকেই চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
