Adenovirus Causes : অ্যাডিনোয় আরও ৮ শিশুমৃত্যু, শ্বাসকষ্টে হেল্পলাইন – 8 more child lost life for adenovirus introduction in west bengal


এই সময়: করোনাকালের মতোই এ বার শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ২৪ ঘণ্টার বিশেষ হেল্পলাইন সেল খুলল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল মাথাচাড়া দিয়েছে অ্যাডিনোভাইরাস-সহ শ্বাসনালীর সংক্রমণ এবং শ্বাসকষ্ট তৈরিতে সক্ষম বেশ কয়েকটি জীবাণুর বাড়বাড়ন্তও চলছে। আক্রান্তের সংখ্যা এতটাই বেশি যে অসুস্থ শিশুদের বেড পাওয়াই মুশকিল হয়ে গিয়েছে হাসপাতালে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাতটি এবং গত দু’মাসে অন্তত ৩৮টি মৃত্যুরও সাক্ষী বাংলা।

সার্বিক পরিস্থিতি সামলাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মঙ্গলবার ‘এআরআই (অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন) হেল্প সেল’ খুলল স্বাস্থ্যভবন। অসুস্থ শিশুর অভিভাবককে পরামর্শ এবং কোন হাসপাতালে শয্যা খালি আছে, সে সব সম্পর্কে দিশা দেবে এই হেল্পলাইন। পাশাপাশি, করোনা-পর্বের মতোই মহকুমা স্তর থেকে মেডিক্যাল কলেজ স্তর পর্যন্ত সব হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক এআরআই ক্লিনিক চালুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Adenovirus Advisory : চালু ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন-স্পেশাল ওয়ার্ড, অ্যাডিনো নিয়ে তৎপর স্বাস্থ্য ভবন
কেননা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টের জেরে শিশুমৃত্যু চলছেই। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে রেফার। যদিও এই ঘোর সঙ্কটেও আশার কথা হলো, চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন, যে ভাবে গরম বাড়ছে, তাতে আর বেশি দিন থাকবে না অ্যাডিনো-সহ শ্বাসনালীর সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণুগুলির দৌরাত্ম্য।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের অধ্যক্ষ জয়দেব রায় বলেন, “তাপমাত্রার ওঠাপড়া থেমে গরমটা পাকাপাকি পড়লেই এই সব সংক্রমণ কমে যাওয়া উচিত।” রবি ও সোমের পর মঙ্গলবারও অবশ্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কলকাতার দুই সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ একরত্তির। এদের মধ্যে দু’জন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এবং তিন জন বিসি রায় শিশু হাসপাতালে মারা গিয়েছে।

মৃতদের মধ্যে অন্তত দু’জন অ্যাডিনোভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। এক জনের ছিল হৃদযন্ত্রের জন্মগত সমস্যা। জানা গিয়েছে, সোমবার দুই শিশু জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গিয়েছে বর্ধমান মেডিক্যালেও।

Adenovirus : অ্যাডিনো আতঙ্কের মধ্যে ফের ৩ শিশুর মৃত্যু শহরে, বাড়ছে উদ্বেগ
মৃতদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে একটি সাধারণ সমস্যা–প্রায় প্রত্যেকেরই স্থানীয় স্তরে চিকিৎসা শুরু হয়েছে ঢের দেরিতে। যতক্ষণে তারা বড় হাসপাতালে এসেছে, ততক্ষণে পরিস্থিতি চলে গিয়েছে হাতের বাইরে। এ দিকে বড় হাসপাতালে শ্বাসনালীর সংক্রমণে বেড খালি পাওয়াই এখন দুষ্কর।

বিশেষ করে পেডিয়াট্রিক ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে (পিকু) প্রায় কোনও হাসপাতালেই কোনও খালি শয্যা নেই। ফলে বহু শ্বাসকষ্টের শিশুরোগীই সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে চিন্তা বেড়েছে শীর্ষ প্রশাসনের। বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে নবান্নে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী।

তার পর স্বাস্থ্যভবনে ফিরে দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন স্বাস্থ্যসচিব। সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্যকে নিয়ে স্বাস্থ্যসচিব আবার নবান্নে যান মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করতে। বৈঠকে সংক্রমণ প্রতিরোধের নানা উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

Adenovirus Infection : অ্যাডিনো সন্দেহেও পরীক্ষা করোনার
ভিড়ে যেতে শিশুদের নিষেধ করা ও মাস্ক পরায় উৎসাহ দেওয়ার কথা ওঠে বৈঠকে। তবে এখনই কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে না শিশুদের স্কুলে যাওয়া, জনবহুল জায়গায় ঘোরাফেরা বা পার্ক, সিনেমা হল, শপিং মলে যাওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু মাস্ক পরা ও হাত স্যানিটাইজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে অভিভাবকদের উদ্দেশে।

সর্বসাধারণের জন্যে উপ-স্বাস্থ্য অধিকর্তা (জনস্বাস্থ্য) গিরীশচন্দ্র বেরার নেতৃত্বে চালু হয়েছে এআরআই হেল্পলাইন। বিভিন্ন গাইডলাইনও প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।নবান্নে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, করোনা সতর্কীকরণের মতোই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ পরিষেবার ব্যবস্থা রাখতে হবে শ্বাসকষ্টে ভোগা শিশুদের চিকিৎসায়।

বেড বাড়িয়ে এবং একটু সুস্থ হলেই শিশুদের ছুটি দিয়ে বেড খালি করার চেষ্টা করতে হবে। সপ্তাহখানেক পর্যবেক্ষণের পর নতুন সতর্কীকরণের কথা ভাববে সরকার। আপাতত ঠিক হয়েছে, মহকুমা স্তর থেকে পরিকাঠামোর প্রকৃত সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে কমাতে হবে রেফার।

Adenovirus Infection : আরও দুই শিশুর মৃত্যু, চিন্তা বাড়ছে অ্যডিনোয়
এআরআই নির্দেশিকা
* ২৪ ঘণ্টার জন্যে খোলা থাকবে এআরআই হেল্পলাইন (১৮০০-৩১৩৪৪৪-২২২)।
* আউটডোর ও ইমার্জেন্সি ছাড়াও সব মহকুমা হাসপাতাল, স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে পেডিয়াট্রিক এআরআই ক্লিনিক।
* বড় হাসপাতালে রেফার করতে গেলে অপেক্ষাকৃত ছোট হাসপাতালের সুপারের লিখিত অনুমতি লাগবে চিকিৎসকের।
* আউটডোরের সময়টুকু বাদ দিলে দিনের বাকি সময়ে সব হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ন্যূনতম এক জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে থাকতেই হবে।
* অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভেন্টিলেশনের অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে দৈনন্দিন খোঁজখবর রাখতে হবে সুপার ও নার্সিং সুপারকে।
* কলকাতার বিসি রায় শিশু হাসপাতাল ও ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ ও মালদা মেডিক্যাল কলেজ এবং বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ-এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পরিষেবা দেবে ‘পেডিয়াট্রি হাব’ হিসেবে।
* সব বেসরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের সতর্ক করা হবে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *