জানা গিয়েছে, অমৃতখন্ড কলোনি প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা সব মিলিয়ে ১২ জন। সব মিলিয়ে দুজন শিক্ষক স্থায়ী ও একজন ডেপুটেশনে আসা শিক্ষক রয়েছেন। কিছু দিন আগে পর্যন্ত স্কুলের দুজন শিক্ষিকা ছুটিতে ছিলেন। তবে এখন তিনজনই কাজে যোগদান করেছেন।
অভিযোগ, এই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে সময়মত স্কুলে আসেন না। ফলে মিড ডে মিলের রান্নাতেও হয় দেরি। পেটে খিদে নিয়ে বহুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় পড়ুয়াদের।
অভিভাবক থেকে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মাধবী সাহা সাড়ে বারোটা একটার আগে কোনদিনও স্কুলে আসেন না। এদিকে স্কুলের ছাত্র সংখ্যা মাত্র ১২ জন। বর্তমানে মোট শিক্ষক – শিক্ষিকা তিন জন। এদিন সাড়ে ১১ টার পর স্কুলে গিয়ে দেখা গেল মাত্র ৬ জন ছাত্র উপস্থিত হয়েছে। স্কুলের সহ-শিক্ষিকা স্বীকার করে নেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দেরিতে আসার ঘটনা।
এদিন সাড়ে বারোটা নাগাদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাধবী সাহাকে বালুরঘাটের আর্য সমিতি পাড়ায় তার বাড়িতেই পাওয়া গেল। অর্থাৎ দুপুর সাড়ে বারোটায় তিনি স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা দিচ্ছেন। দেরিতে রওনা দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, তিনি অসুস্থ। ডিসেম্বর মাসের প্রথমের দিকে পা ভেঙে যায়। তারপর থেকে তিনি ছুটিতে ছিলেন। বর্তমানে তার ছুটি শেষ হয়ে গেলেও, এখনও অসুস্থ রয়েছেন তিনি।
যদিও গ্রামবাসী নীহার সরকার ও অভিভাবক সুজিতা কুন্ডু দাস বলেন, শুধুমাত্র এখন নয়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অনিয়মিত সময়ে স্কুলে আসেন। এই শিক্ষিকার জন্য স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। ওই স্কুল শিক্ষিকার জন্য অনেক দেরিতে মিড ডে মিলের রান্না ও খাওয়া হয়। প্রশাসনের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত বলে অভিযোগ অভিভাবকদের ।
অন্যদিকে এবিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা জানান, ওই স্কুলের বিষয়টি তার নজরে রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অসুস্থ বলে তিনিও জানেন। সে কারণেই একজন অতিরিক্ত শিক্ষককে ডেপুটেশন ভিত্তিতে ওই স্কুলে পাঠানো হয়েছে, যাতে পঠন পাঠনে সমস্যা না হয়। তাও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি৷
