DA Update West Bengal: পিএফ-পেনশনে কোপ? DA আন্দোলনে অংশ নিলে কী শাস্তির মুখে পড়বেন সরকারি কর্মীরা? – what punishment west bengal government employees who are participated in da strike may receive know details explanations


শীর্ষেন্দু দেবনাথ ও তুহিনা মণ্ডল | এই সময় ডিজিটাল
কেন্দ্রীয় হারে DA-সহ একাধিক দাবিতে জেলায় জেলায় ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একটা বড় অংশ। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডাকে অনেকেই এদিন অফিস বয়কট করে আন্দোলন গিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি অন্তত এমনটাই। ধর্মঘট রুখতে বৃহস্পতিবারই একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল নবান্ন। শুক্রবার কাজের দিনে যদি রাজ্য সরকারি কর্মীরা কাজে যোগ না দেন, সেক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করা হবে (শর্তসাপেক্ষে ছাড় দেওয়া হয়েছে), জানিয়েছিল নবান্ন।

শুক্রবার সকাল থেকেই দেখা গিয়েছে, জেলায় জেলায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে ধর্মঘটের আঁচ পড়েছে। সেক্ষেত্রে নবান্নের নির্দেশ না মেনে কোনও রাজ্য সরকারি কর্মী যদি শুক্রবার কাজে অনুপস্থিত থাকেন, সেক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নিতে পারে রাজ্য?

DA Strike In West Bengal : DA আন্দোলনকারীদের অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ রাজ্যপালের, নবান্নের কঠোর নির্দেশিকার মাঝেই চলছে ধর্মঘট
ঠিক কী বলা হয়েছে রাজ্যের নির্দেশিকায়?
নবান্নের তরফে ৯ মার্চ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার কোনও ক্যাজুয়াল লিভ নেওয়া যাবে না বা অর্ধ দিবস ছুটিও এক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবে না। এদিন রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাজে অনুপস্থিতি ‘ডাইস নন’ (ব্রেক ইন সার্ভিস) হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এই ধরনের অনুপস্থিতি দেখা গেলে ওই দিনের বেতন কেটে নেওয়া হতে পারে।

DA Protest Latest News : কঠোর সরকার, ধর্মঘটে অনড় আন্দোলনকারীরা
কী কী ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে?
চারটি ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে রাজ্য সরকার। এক, কোনও সরকারি কর্মী হাসপাতালে ভর্তি থাকলে।দুই, পরিবারে কোনও অঘটন বা আকস্মিক কারও মৃত্যু হলে। তিন, কোনও কর্মী যদি গুরুতর অসুস্থ থাকেন এবং তা শুক্রবার পর্যন্ত চলে। চার, যদি কোনও কর্মী ৯ তারিখের আগে শুক্রবারের জন্য চাইল্ড কেয়ার লিভ, মাতৃকালীন ছুটি, অসুস্থতার জন্য ছুটি বা আর্ন লিভের অনুমোদন করিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে তিনি ছুটি নিতে পারেন। শুক্রবার অনুপস্থিত থাকলে বিভাগীয় প্রধানরা শো-কজ করতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্মীকে। সে কথাও ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।

সরকার ঠিক কতটা কড়া হতে পারে এক্ষেত্রে?
ধর্মঘটে অংশ নেওয়া সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ঠিক কী পদক্ষেপ করতে পারে রাজ্য সরকার? নবান্নের এক কর্তা বলেন, “শাস্তিস্বরূপ একদিনের বেতন কেটে নেওয়া সম্ভব। সেটা আগেও হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মীর জীবন থেকে একটি কাজের দিন কম করা সম্ভব। উদাহরণ স্বরূপ কোনও সরকারি কর্মীর কর্মজীবন ৩০ বছর ৩২ মাস ৭ দিন হয়।

DA Latest News Today: ‘ডিএ দিতে পারবেন না শ্বেতপত্র প্রকাশ করে বলে দিন’, দাবি আন্দোলনকারীদের
সেখানে থেকে একদিন কমিয়ে তা ৬ দিন করতে পারে রাজ্য সরকার। পেনশন এবং গ্র্যাচুইটি সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধায় সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। সার্ভিস রুলেই সে কথা বলা আছে। কিন্তু তার আগে ‘ডাইস নন’ বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।” জুডিশিয়াল সার্ভিসেসের এক কর্তা বলছিলেন, “সার্ভিস রুলেই বলা আছে, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পাশাপাশি নীচুতলার কর্মীদের ‘রাইট টু স্ট্রাইকের’ অধিকার আছে। ফলে সরকারের বৃহস্পতিবারের নির্দেশিকা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী। এক্ষেত্রে কেউ আদালতে গেলে বিষয়টি খানিকটা হলেও তার পক্ষে যাবে।’’

West Bengal DA News : DA দিতে ১.৬৪ হাজার কোটি খরচ হয়েছে, কী পেলে নন্দলালেরা খুশি হবে: মমতা
কী বলছেন আন্দোলনকারীরা?
যদিও রাজ্য সরকার কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারে তা মানতে নারাজ এই আন্দোলনকে সমর্থনকারী রাজ্য সরকারি কর্মী দেবাশিস শীল। তিনি বলেন, “রাজ্য এই ধর্মঘটকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেনি। আমরা নিয়ম মোতাবেক ১৪ দিন আগে ধর্মঘটের কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু, এর প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করা হয়নি।”

তাঁর আরও সংযোজন, “চাকরি কোনওভাবেই যেতে পারে না। আর আজ সমস্ত জেলাতেই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের মনে হয় না সরকার কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারে।” অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কিংকর অধিকারী বলেন, “সার্ভিস রুলেই আমাদের আন্দোলনের আধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকার বড়জোর একদিনের বেতন কাটতে পারে। কিন্তু, আজ রাজ্যজুড়ে লাখ লাখ কর্মীরা এই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ক’জনের বেতন কাটবে!” সরকারের বিজ্ঞপ্তি তাঁরা মানেন না, জানান এই আন্দোলনকারী।

Firhad Hakim : ‘না পোষালে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি করুন!’ DA নিয়ে আন্দোলনকারীদের কড়া বার্তা ফিরহাদের
তাঁর কথায়, “সরকার যদি কোনও কড়া পদক্ষেপ নয় আমরাও আইনি লড়াই লড়ব।” জ্যের অর্থসচিব মনোজ পন্থের জারি করা নির্দেশিকার পালটা একটি চিঠি রাজ্যের অর্থসচিবকে মেইল করেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আইনজীবী প্রবীর চট্টোপাধ্যায়। এই নির্দেশিকা ‘বেআইনি’ এবং ‘অসদউদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

কী বলছে রাজ্য সরকার?
রাজ্যের মন্ত্রী তথা মানস ভ্যুঁইয়া অবশ্য বলেন, “ অধিকাংশ দফতরেই ১০০ শতাংশ উপস্থিতি রয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধর্মঘট করা হচ্ছে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *