ধর্মঘটের দিন স্কুলে শিক্ষকরা না আসায় কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা দুই ব্লকের ছিটকিবাড়ি নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। স্কুলের TIC সুভাষ কর্মকার বলেন, “গতকাল বিভিন্ন দাবি দাবা নিয়ে ধর্মঘট ছিল। তাই আমরা স্কুলে আসিনি। আজকে এসে দেখছি স্কুলে তালা ঝোলানো রয়েছে”।
একই ছবি দেখা গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরেও। গতকাল ধর্মঘট পালনের পর শিক্ষকরা আজ স্কুলে ঢুকতে গেলে অভিভাবকরা এসে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে এক ঘন্টা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে থাকেন ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষক মহল। পরবর্তীতে অশোকনগর থানার পুলিশ আসে, আর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যালয়ের তালা খুলে দেয়।
হুগলি জেলার বলাগড়েও পুলিশের সাহায্য নিয়ে স্কুলে ঢুকতে হয় শিক্ষকদের। বলাগড়ের মিলনগর জিএসএফ প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকদের ঢুকতে দেননি অভিভাবকরা। স্কুলে ঢুকতে না পেরে গাছতলায় বসে থাকেন শিক্ষকরা। অভিভাবকরা পড়ুয়াদের স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে স্কুলের গেট আটকে দাঁড়িয়ে থাকেন। বলাগড় থানার পুলিশ এসে শিক্ষকদের স্কুলে ঢুকিয়ে দেয়। বলাগড়ের SI গৌরব চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “স্কুলের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় আজ শিক্ষকদের হাজিরা হবে না”।
এদিকে, কেশিয়াড়ীর কূলবনী স্কুলে ধর্মঘটের দিন ১৮ জন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। শনিবার সকালে স্কুল খুলতেই সেই শিক্ষকদের কাছে জানতে চান গতকাল কেন স্কুলে আসেননি। শিক্ষকরা জবাব দিলে অভিভাবকরা তাঁদের জানান, “তাহলে DA পেলেই স্কুলে আসবেন, তার আগে নয়”। তারপর স্কুল খুলে পড়ুয়াদের ঢুকতে দেওয়া হলেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি স্কুলের ওই ১৮ জন শিক্ষককে।
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তৃণমূল নেতা কর্মীরাও। ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় রায়দিঘি বিধানসভার টাঙ্গীপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা সহ ১ শিক্ষককে স্কুলে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কাবেরি দাস সরকার বলেন, “শুক্রবার ধর্মঘটের জেরে আমরা স্কুলে আসিনি। এরপরেই শনিবার স্কুলে এলে এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব আমাকে ও স্কুলের অন্য এক শিক্ষক জাহাঙ্গীর মোল্লাকে স্কুলের মধ্যে ঢুকতে দেয়নি”। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
