জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে টাকা নেওয়া যুবককে দেখতে পেয়েই প্রতারিতরা তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। বিষয়টি স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের নজরে আসতেই তাকে বালুরঘাট বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ট্রাফিক অফিসে বসিয়ে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে আসে বালুরঘাট থানার পুলিশ। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কাজ দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নেন ধৃত যুবক৷ পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই যুবকের নাম রূপকুমার দাস। তার বাড়ি বালুরঘাট শহরে।
কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি পোস্ট করে জানিয়ে ছিলেন কাজের জন্য লোক নেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়া কাজের খোঁজ দেখে বালুরঘাটের ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন চিঙ্গিশপুর এলাকার চারজন যুবতী। কিন্তু কাজের জন্য ২ হাজার টাকা করে সকলের কাছে চায় ওই যুবক।
এমনকি কাজ পাওয়ার জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে হবে বলে জানানো হয়। কাজের জন্য ওই যুবককে টাকা দেওয়ার পর প্রতারিতরা নির্দিষ্ট শপিংমলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কাজের জন্য কাউকে নিয়োগ করা হবে না। অভিযুক্ত যুবক রূপকুমার দাস টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে।
যুবকের সাফাই, কাজের জন্য চারজনের কাছ থেকে ২০০০ টাকা করে নিয়েছিল সে। তিনি এই কাজের জন্য দৌড় ঝাঁপ করছেন। তাদের কাজের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। সেই খরচের জন্য টাকা নিয়েছিলেন৷
আগামী ১৬ তারিখে তাদের কাজে যোগদান করার কথা ছিল। কিন্তু তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না, তারা কাজ পাবে। তাই তারা আটকে পুলিশ হাতে তুলে দিয়েছে। এ বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ ভুয়ো কাজের পোস্ট দেখলেই ট্রেস করা হবে। প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম থানার তরফে নজরদারি চলবে। কেউ নির্দিষ্ট কারও নামে এ নিয়ে অভিযোগ করে, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও বালুরঘাটে একাধিক জায়গায় কাজের নাম করে এই প্রতারণা চক্রের হদিশ মেলে। সম্প্রতি কুমারগঞ্জে এমনই এক প্রতারণার অভিযোগে একজনের বাড়িও ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা।