সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের নাম সুরজিৎ সিংহ রায়, বয়স ৫৫ বছর। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বানীপুরে। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি ছুটিতে থাকলেও বাড়ি যাননি। দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া কমিশনারেটের অধীনে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
সম্প্রতি তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, পুলিশ সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাওড়া থানার পুলিশ। এই আত্মহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে সুরজিৎ বাবুর পরিবারের ভুমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ি ও অফিসের বাইরে তাঁর সঙ্গে কারোর কোনও ঝামেলা বা লেনদেনের কোনও ব্যাপার ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
কাজের সূত্রে দিনের পর দিন অনেক সময় পরিবার, বাড়ি, বন্ধু বান্ধবদের থেকে দূরে থাকতে হয় পুলিশ কর্মীদের। অনেক সময় মেলে না পর্যাপ্ত ছুটিও। কিন্তু এক্ষেত্রে অবভুত ঠেকছে যে বিষয়টি, তা হল বর্তমানে সুরজিৎ বাবু ছুটিতে ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি কেন বাড়ি যাননি, সেই বিষয়ে খোঁজখবর চালানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রের মতে, সশস্ত্র পুলিশ কর্মীরাই দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
সুতরাং মানসিকভাবে তাঁদের সুস্থ থাকাটাই কাম্য। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে কপালে ভাঁজ পড়েছে রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের। গত তিন বছরে পুলিশকর্মীদের আত্মঘাতী হওয়ার যে তথ্য সামনে এসেছে তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পুলিশকর্মীদের এই আত্মঘাতী হওয়ার কারণগুলি চিহ্নিত করার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করার কথা ভাবা হচ্ছে।
আত্মহত্যা এবং সহকর্মী হত্যার কারণগুলি খুঁজে বের করার পাশাপাশি, এই প্রবণতা কমানোর উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে এই টাস্ক ফোর্সের পক্ষ থেকে। কিন্তু এটি আপাতত পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে। কবে এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সন্দিহান সকলেই।