Group C Recruitment : ‘খেলা হবে’ শুনেই ক্ষুব্ধ বিচারপতি – lawyer faces ire of court by commenting khela hobe on behalf of sacked employees of group c


এই সময়: স্কুলের গ্রুপ-সি’র কর্মচ্যুত কর্মীদের হয়ে সওয়ালে ‘খেলা হবে’ মন্তব্য করে আদালতের ক্ষোভের মুখে পড়লেন আইনজীবী। বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে গ্রুপ-সি’র কর্মচ্যুতদের তরফে সওয়ালের শেষ মুহূর্তে বুধবার তাঁদের আইনজীবী বলেন, ‘গেম ইজ অন’। বাংলা করেও বলেন, ‘খেলা হবে’। এই শব্দবন্ধ এখন রাজ্য-রাজনীতিতে অতিপরিচিত।

OMR Sheet : ওএমআরে প্রশ্ন কোর্টে
আইনজীবীর মুখে হাইকোর্টের এজলাসে এমন শব্দবন্ধ ব্যবহারে অনেকেই বিস্মিত হন। বিচারপতি তালুকদার আইনজীবীকে এই শব্দবন্ধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। আইনজীবীও আর বিতর্কে না গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। এ দিন এই মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছে ডিভিশন বেঞ্চ। আবার কর্মচ্যুতদের শূন্যপদে ওয়েটিং লিস্ট থেকে নিয়োগের লক্ষ্যে কাউন্সেলিংয়েও আদালত অন্তর্বর্তী কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি।

Group C Recruitment : গ্রুপ-সি’তে কাউন্সেলিং আপাতত ১০০ জনের
ফলে আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে গ্রুপ-সি’র সেই কাউন্সেলিং। আপাতত পূর্বাঞ্চলের তিন জেলার ১০০ জনকে কাউন্সেলিংয়ে ডাকা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে তাঁদের হাতে হাতেই নিয়োগের সুপারিশপত্র তুলে দেওয়ার কথা। সেই কাউন্সেলিংয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন কর্মচ্যুতদের আইনজীবীরা। আদালত তাতে রাজি হয়নি।

কর্মচ্যুতদের তরফে আইনজীবীরা দাবি করেন, স্কুল সার্ভিস কমিশনের সুপারিশপত্র, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়োগপত্র এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকের অনুমোদন নিয়েই কাজে যোগ দিয়েছিলেন এই কর্মীরা। এই তিন সংস্থার ভূমিকাই বা কেন খতিয়ে দেখা হবে না? এসএসসি, পর্ষদ এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন বলে দাবি করেন আইনজীবীরা।

Recruitment Scam : নিয়োগ-দুর্নীতির সমস্ত মামলার শুনানি একত্রে: সুপ্রিম কোর্ট
তাঁরা ওএমআর শিট মূল্যায়নকারী সংস্থা নাইসা’র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের যুক্তি, উত্তরপ্রদেশ সরকারও নাইসা’কে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। এ দিন নিজের কম্পিউটার থেকে ওএমআর শিটের স্বাক্ষর পরিবর্তন করে এনে আদালতে পেশও করেন কর্মচ্যুতদের এক আইনজীবী। তাঁর যুক্তি, জমা পড়া ওএমআরেও বিকৃতি ঘটানো সম্ভব।

Shantanu Banerjee Recruitment Scam: শান্তনু ঘনিষ্ঠ প্রোমোটারের অফিসে OMR শিটের পাহাড়! দুর্নীতির সবথেকে বড় প্রমাণ ED-র হাতে?
তবে সিবিআইয়ের দাবি, তাদের বাজেয়াপ্ত করা ওএমআর নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। এগুলি শুধুমাত্র স্ক্যানড কপি নয়, জটিল প্রযুক্তিগত দিক রয়েছে। ওএমআর শিট কোনও সাধারণ কাগজ নয়। এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যে উচ্চ প্রযুক্তি রয়েছে। এর সঙ্গে একটা অ্যানসার স্ট্রিং থাকে, যার দ্বারা নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়। এ ক্ষেত্রে ওএমআর শিটগুলি এসএসসির অফিসে স্ক্যান করা হয়েছিল।

সিবিআই জানায়, নিয়োগ দুর্নীতিতে আর্থিক লেনদেনের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, মাথা পর্যন্ত পৌঁছতে সময় লাগছে। তবে খুব তাড়াতাড়িই মাথার সন্ধান মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন জানায়, ওএমআর শিটগুলি পরীক্ষা করে দেখার পরেই নিয়োগের সুপারিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

Calcutta High Court : ‘প্রয়োজনে সব নিয়োগ খারিজ করে দেব’, হাইকোর্টে চরম ভর্ৎসনার মুখে SSC
কর্মচ্যুতদের আইনজীবীরা বলেন, যে তালিকা থেকে নতুন করে কাউন্সেলিংয়ে ডাকা হচ্ছে, তার মেয়াদ বহু দিনই শেষ হয়েছে। সেই ‘ফসিল’ প্যানেল থেকে আর কাউন্সেলিংয়ে ডাকা বা নিয়োগ করা যায় না। বিচারপতি তখন হালকা সুরে মন্তব্য করেন, ‘ফসিল না, মিশরীয় ফসিল’। তবে কাউন্সেলিং স্থগিত করেনি আদালত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *