জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে চালু হয়েছে মুরাড্ডি গার্লস উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ছাত্রী নিবাস। আর সেই ছাত্রী নিবাসে বৃহস্পতিবার স্কুল চলাকালীন অবস্থায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা ঘটে। ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে স্কুল চত্বর জুড়ে। এদিনের ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যালয়ের ছাত্রী নিবাসের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম মধুমিতা সরেনের বাড়ি সাঁতুড়ি থানার লাটুরবাদ গ্রামে। এই মেয়েটি আজই বাড়ি থেকে ছাত্রী আবাসে এসেছিল। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে নবম-দশম শ্রেণির ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে চলে যায়। তারা ফিরে এসে মধুমতির সাড়া না পেয়ে হস্টেলে কর্তব্যরত ওয়ার্ডেনকে খবর দেন।
তারপরই জানালার কাঁচ ভেঙে দেখা যায় ওই ছাত্রী ঘরের ভিতর ঝুলে রয়েছে। বিদ্যালয়ের পেছনে রয়েছে হস্টেলটি। পরে রুমের দরজা ভেঙে তাকে তড়িঘড়ি মুরাড্ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়ার গর্ভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, ঘটনার পর ছাত্রী নিবাসের অন্যান্য ছাত্রীরা যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছে। ওই ছাত্রী কোনও মানসিক অবসাদে ছিলেন কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি সহপাঠীরা। ছাত্রী নিবাস আসার প্রথম দিনেই এরকম আত্মহত্যার ঘটনায় হতবাক সকলেই। স্কুলের তরফে ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ছাত্রীটির পরিবারের সদস্যের জিজ্ঞাসাবাদ করে তার আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে আপাতত এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে ছাত্রী নিবাসের নিরাপত্তার বিষয়টি স্কুলের দেখা উচিত বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তবে সহপাঠীর মৃত্যুতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়ার মধ্যে।
