Recruitment Scam : নজরে সরকারি অফিসাররা, সূত্র ‘মিস্টার সামন্ত’, আধিকারিকদের নাম কেস ডায়েরিতে – recruitment scam government employees are also associated said cbi


এই সময়: নিয়োগ দুর্নীতিতে সরকারি অফিসারদের ভূমিকাও এ বার সিবিআইয়ের আতসকাচের তলায়। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে সিবিআই দাবি করেছে, নিয়োগ দুর্নীতিতে দু’টি ‘পিলার’ ছিল। একদিকে ছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। অন্যদিকে একদল সরকারি অফিসার। এঁদের মাঝে সেতু ছিলেন কুন্তল ঘোষ, তাপস মণ্ডল, নীলাদ্রি ঘোষের মতো এজেন্টরা। যাঁরা চাকরিপ্রার্থীদের থেকে টাকা নিয়ে ওই অফিসারদের মাধ্যমে চাকরি পাকা করতেন।

Recruitment Scam : নম্বর বাড়াতেও ‘ফিক্সড রেট’! কুন্তলদের বিরুদ্ধে আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি CBI-র
পাশাপাশি সিবিআই এ দিন আদালতে দাবি করেছে, এই প্রার্থীদের নম্বর বাড়াতে রেট চার্ট তৈরি হয়েছিল। এতে জড়িত সন্দেহে ৭-৮ জন সরকারি অফিসারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে সিবিআই সূত্রে খবর। এঁদের শীঘ্রই তদন্তের আওতায় আনতে চাইছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
কুন্তল ঘোষের বিরুদ্ধে ইডি যে চার্জশিট দিয়েছে, তাতে রাজ্যের শিক্ষা সচিব মণীশ জৈন এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ওএসডি সুকান্ত আচার্যর নাম আছে।

Recruitment Scam : ‘অয়ন ১০০০ চাকরিপ্রার্থীর থেকে তোলেন ৪৫ কোটি!’ রক্তাক্ত হৃদয়ে কাঁদতেন রবি ঠাকুর: এডুলজি
সিবিআই সূত্রের খবর, ‘মিস্টার সামন্ত’ নামে এক সাক্ষীর বয়ান সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হতে চলেছে। কে এই মিস্টার সামন্ত? সে ব্যাপারে সিবিআই স্পষ্ট করে কিছু জানাতে চায়নি। তবে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মিস্টার সামন্তর বয়ান তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিয়ে গিয়েছে।

সিবিআইয়ের কৌঁসুলি ডিএন পাণ্ডে আদালতে বলেন, ‘দুর্নীতিতে জড়িত সরকারি অফিসারদের নাম রয়েছে কেস ডায়েরিতে। এটা একটা সুসংহত অপরাধ। যেখানে সরকারি অফিসাররাও জড়িত।’ এ ব্যাপারে একাধিক সাক্ষীর বয়ানও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিচারক বলেন, ‘এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত যে সরকারি অফিসাররা আছেন, তাঁদের সামনে আনতে হবে।’

Kuntal Ghosh : ‘অভিষেকের নাম বলানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে’, বিস্ফোরক কুন্তল
পাশাপাশি, এখনও কোনও সরকারি অফিসারের বয়ান রেকর্ড না হওয়ায় সিবিআইয়ের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারক। এ ছাড়াও একাধিক বিষয়ে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। টাকা তোলা হলে তা কার কাছে গিয়েছে, সিবিআই কেন তা এখনও বের করতে পারেনি, সে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। আবার, কেস ডায়েরির নানা অংশ দেখে বিচারকের প্রশ্ন, ‘বারবার আপনাদের অভিযোগগুলো বদলে যাচ্ছে কেন?’ এমনকী কোথাও কোথাও সিবিআইয়ের দাবি ‘পরস্পর বিরোধী’ বলেও মনে করেছে আদালত।

Recruitment Scam : জেলে মশার কয়েল চেয়ে কুন্তলের আর্জি খারিজ কোর্টে
এ সবের মধ্যেই এক সময়ে বিচারক জানতে চান – যে সরকারি অফিসাররা জড়িত, তাঁদের হাজির না করলে, অভিযুক্তদের কতদিন আটকে রাখা হবে? তদন্তে গতি আনার কথা বলে সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারকে বিচারকের পরামর্শ, ‘তদন্তটা পেস বোলারের মতো করুন। স্পিনারদের মতো করছেন কেন?’

কী ভূমিকা ছিল সরকারি অফিসারদের? সিবিআই সূত্রের দাবি, সরকারি অফিসারদের একাংশের সঙ্গে কুন্তল, নীলাদ্রি, তাপসদের সরাসরি যোগসাজশ ছিল। প্রার্থীদের থেকে রেট চার্ট অনুযায়ী টাকা তুলতেন এঁরা। এ ক্ষেত্রে নম্বর বাড়ানোর জন্য আলাদা আলাদা দরে টাকা নেওয়া হতো বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। অর্থাৎ, যিনি ৬৮% পেয়েছেন, তাঁর নম্বর ৭২% করতে এক রকম দর।

Recruitment Scam : ‘সিবিআই এখন সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনকম্পিটেন্সি?’
আর যিনি ৭০% পেয়েছেন, তাঁর নম্বর ৭২% করতে আর এক দর। অভিযোগ, এই কাজে সরাসরি সাহায্য করতেন অফিসাররা। এবং তাঁদের কাছে এই টাকার ভাগ পৌঁছত বলে মনে করছে সিবিআই। অফিসারদের এই ভূমিকারই পর্দাফাঁস করতে তৎপরতা বলে আদালতে দাবি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। তা হলে কি নতুন করে আরও গ্রেপ্তারির পথে হাঁটবে সিবিআই? এ বিষয়ে এখনই মন্তব্যে নারাজ তারা।

এরই মধ্যে এ দিন তাপস মণ্ডল ও কুন্তল ঘোষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে তাঁদের মক্কেলদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে আবেদন জানান। কুন্তলের আইনজীবী জানিয়েছেন, জেলে থেকে কুন্তলের পা ফুলেছে। জেল কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টি দেখেন। আর তাপসের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের নানা কঠিন অসুস্থতা ছিলই। সেগুলো মাথাচাড়া দিয়েছে।

Recruitment Scam : লেনদেনে জোট পার্থ-কাউন্সিলরের, দাবি ইডি-র
জেলের হাসপাতালের অবস্থা খারাপ। তাই তাপসকে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার দাবি করেন তিনি। কিন্তু এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দেন বিচারক। পরে তিনি প্রেসিডেন্সি জেল সুপারকে নির্দেশ দেন যাতে কুন্তল ও তাপসের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরের শুনানিতে জেল কর্তৃপক্ষের রিপোর্টও তলব করেন বিচারক। এ দিন কুন্তল-তাপস-নীলাদ্রি, তিনজনকেই ২০ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *