দিঘা বেড়াতে এসে অসমের এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি একটি বেসরকারি হোটেল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। মঙ্গলবার গভীর রাতে দিঘা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিখোঁজ ব্যক্তির মেয়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে দিঘা থানার পুলিশ। অবশেষে রামনগরের ১৪ মাইল দূরে ঘনকান্ত দাস (৬৮) নামক ওই ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়।
জানা গিয়েছে, গত ৩ এপ্রিল কলকাতা থেকে বাসে করে অসমের গৌরিপুরের বাসিন্দারা দিঘায় বেড়াতে আসেন। এরপর তাঁরা নিউ দিঘার একটি বেসরকারি হোটেলে ওঠেন। পরের দিন ঘনকান্ত দাসকে খুঁজে পাওয়া না গেলে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে তাঁর গোটা পরিবার।
তাঁর মেয়ে ধূলিকনা দাস বলেন, “আমরা ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। বাবাকে হারিয়ে ফেলি। শুক্রবার সকালে আমি একজনের ফোন পাই। তিনি রামনগরের বাসিন্দা। তিনি আমাকে বাবার খোঁজ দেন। রামনগরের এক বাসিন্দা বাবাকে থাকতে দিয়েছিলেন, তাঁর সেবা করেছিলেন। রাতে বাবাকে বাড়িতে রেখেছিলেন। আমি কৃতজ্ঞ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে।”
এদিকে বাবাকে খুঁজে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মেয়ে। তিনি চন্দনেশ্বর মন্দিরে পুজো দেন। পাশাপাশি তিনি দুঃস্থদের ভুরিভোজের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, “বাবাকে ফিরে পাব এই আশা ক্রমশ হারিয়ে ফেলছিলাম। স্থানীয় মানুষজনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাকে এই চরম বিপদে অত্যন্ত সাহায্য করেছে। আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষের মধ্যে ভগবান রয়েছে। তাই তাঁদের সেবা করছি।”
অন্যদিকে, পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে খুশি ওই ব্যক্তি। যদিও কী ভাবে তিনি হোটেল থেকে হারিয়ে গেলেন? তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ওই ব্যক্তি অবশ্য এখনও এই প্রসঙ্গে কোনও আলোকপাত করতে পারেননি।
জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাঁদের কথায়, “ঘনকাণ্ড কী ভাবে গায়েব হলেন তা জানা নেই। আমরা সকলেই অবাক। পুলিশের থেকে সাহায্য পেয়েছি। সকলকে ধন্যবাদ। আমরা বাড়ি ফিরে যাব। ঘুরতে এসে এই ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে বুঝতে পারিনি।”