ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রের ভিতরে শুরু হয়েছিল গণ্ডগোল। সেই ছবি তুলতে গেলেই আক্রান্ত হতে হয় সংবাদমাধ্যমকে। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় এবং গণ্ডগোলের ভিডিয়ো তোলা হলে সেগুলি সব ডিলিট করে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের মারধরও করা হয় এবং বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
এরপরই পুলিশ তৎপর হয়। বেলঘড়িয়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। এদিকে পুলিশ আসার পর প্রায় ৩০ মিনিট পর সংবাদমাধ্যম কর্মীদের ফোনগুলি ফেরত দেওয়া হয়। এদিকে, সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগেই সামান্য পুরসভার কো-অপারেটিভ নির্বাচনেই যদি এই ছবি হয়, তাহলে সেটা চিন্তার বিষয় বলেই মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
কামারহাটি পুরসভার কো-অপারেটিভ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছরিয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, CPIM কর্মীদের এদিন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সেই সঙ্গে ‘CPIM করছিস! CPIM করবি রে’! এসব বলেও মারধর করে বের করে দেওয়া হয় ভোটগ্রহন কেন্দ্র থেকে। অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এদিকে CPIM নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখার্জী ঘটনাস্থলে আসলে তাঁর সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে তৃণমূল কর্মীরা। তাঁকে ভোটগ্রহন কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, ও ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়া হয়। বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী ও পুরসভার নিরাপত্তারক্ষীরা একসঙ্গে মানসবাবুকে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কামারহাটি পুরসভা এলাকায়। এই বিষয়ে কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখার্জী বলেন, “এখানে ভোটের নামে প্রহসন চলছে। ইতিমধ্যেই সব ভোট পড়ে গিয়েছে। এভাবে ভোট করার মানে কি? সাধারন মানুষ সব দেখছেন।
এটি একটি সামান্য সমবায় নির্বাচন। তাতেই যদি শাসকদল এরকম মারমুখী হয়ে ওঠে, তাহলেই ভেবে নিন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কি হতে পারে”। এরপরেই ভোটের নামে প্রহসনের অভিযোগ তুলে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বামেরা। প্রসঙ্গত, আজ কামারহাটি কর্মচারী সমবায় সমিতির ১২টি আসনে ভোট হচ্ছে।