Organ Donation : দুর্ঘটনায় ব্রেন ডেথ ছেলের, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে নজির দাসপুরের প্রবীণের – one person from paschim midnapore donate 6 organ of his son after brain death


চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন ব্রেন ডেথ! ছেলেকে চোখের সামনে সারাজীবনের মতো হারিয়ে যেতে দেখছেন প্রবীণ। চোখে হতাশা, বুকে একরাশ বেদনা-আবার কী ভাবে ওকে বাঁচানো সম্ভব? চিকিৎসকরা জবাব দিয়ে দিয়েছেন। মিরাকল-এর প্রতীক্ষা করছিল গোটা পরিবার। কিন্তু, প্রবীণ বাবা আর অপেক্ষা করেননি।

Babul Supriyo : ডানপাশে বাবা, বাম হাত রাখার জন্য মায়ের কাঁধটাই নেই! মন কেমন বাবুলের
ছেলে বাঁচবে। একজন নয়, ছয় জনের মধ্যে বেঁচে থাকবে ছেলে। সন্তানের ব্রেন ডেথ ঘোষণা হওয়ার পর তাঁর একসঙ্গে ছ’টি অঙ্গদান করে নজির স্থাপন করলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের শেখরঞ্জন মণ্ডল। ‘ওদের মধ্যেই নীলকে সারাজীবন দেখতে পাব, পাবই…’, ভাঙা ভাঙা গলায় বললেন প্রবীণ।

সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বাসিন্দা নীলশেখর মণ্ডল ১ এপ্রিল একটি পথ দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাঁকে প্রথমে সোনাখালি প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরবর্তীতে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল নীলের।

Sikkim Avalancha News: মিথ্যে কথা বলে ছাঙ্গুতে, তুষারধসে একমাত্র ছেলের মৃত্যু সংবাদ বিশ্বাস হচ্ছে না রায়চৌধুরী পরিবারের
এরপরেই তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে গত ৭ তারিখ চিকিৎসকরা ২৩ বছরের নীলের ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন। অনেকেই ব্রেন ডেথের পরেও কোনও চমৎকারের প্রতীক্ষা করেন। কিন্তু, নীলের বাবা শেখরঞ্জন যেন তেন প্রকারে ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন। আর সেই কারণে ছেলের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

নীলের হার্ট, কিডনি, ফুসফুস সহ মোট ছয়টি অঙ্গ দান করা হয়। নীলের বাবা বলেন, “আমার ছেলে আরও বহু মানুষকে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়ে গেল। আমি ছেলেটাকে আর চোখে দেখতে পারব না। কিন্তু, ওর অঙ্গ অনেকের প্রাণ বাঁচাবে।

Gerard Pique Shakira : ‘বন্ধুত্ব প্রেমের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী’, পিকে’কে আবেগঘন বার্তা দিয়ে বার্সা ছাড়লেন শাকিরা
নীল ছোটবেলা থেকে মেধাবি। তিনি ফিজিক্সে স্নাতক হওয়ার পর ডেটা সায়েন্সে স্নাতকোত্তর হন। অঙ্গদানের চিন্তাভাবনাকে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সমর্থন করে এসেছেন। প্রত্যন্ত গ্রামে তাঁর বসবাস। বাবা সহ পরিবারকেও অঙ্গদান নিয়ে সচেতন করেছিলেন তিনি।

পাশাপাশি বিভিন্ন ভুয়ো ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যও তৎপরতার কথা বলেছিলেন এই যুবক। তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম আমাদের ছেলের দেখানো পথে হাঁটতে। পাশাপাশি চিকিৎসকরাও অঙ্গদানের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক নীলের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

Kurmi Protest Latest News : কুড়মিদের আন্দোলনের ৪ দিন পার, রেল-সড়ক অবরোধে বাড়ছে দুর্ভোগ
এদিকে সন্তান হারিয়ে শোকে কাতর গোটা পরিবার। শনিবার সন্ধ্যায় নীলের দেহ দাসপুরে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় তাঁর। নীলের অঙ্গদানের সিদ্ধান্তের পর আশেপাশের মানুষজনের মধ্যেও সচেতনতা ছড়িয়ে পড়বে বলেই আশাবাদী তাঁর পরিবার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *