এ কোনও রূপকথার গল্প নয়, এ গল্প জীবন যুদ্ধে হার না মানার গল্প। এ গল্প দিঘার অদূরে রামনগর থানার গোবরা গ্রামের। গোবরা গ্রামের বাসিন্দা অন্নপূর্ণা মাইতি এ বার ১০১ বছরে পা দিলেন। তাই বাড়িতে বেলুন সাজিয়ে কেক কেটে তাঁর জন্মদিন পালন করলেন নাতি নাতনীরা। বয়স হয়ে গেলেও তিনি পরিবারের একজন। সেই বার্তা দিতেই এই আয়োজন। তা ছাড়া ঠাকুমাকে আনন্দ দিতেও চেয়েছিলেন তারা। চারিদিক নানা রঙের বেলুনে সাজানো। আত্মীয়ে স্বজনে ভরা বাড়ি। টেবিলের ওপর রাখা কেক। তাতে লেখা ১০১। প্রিয়জনদের উচ্ছ্বাসে ভাসতে ভাসতে কেক কাটলেন অন্নপূর্ণা দেবী।
অন্নপূর্ণা দেবীর ছেলে অরুন মাইতি বলেন, “এখন দেখছি অনেকে বৃদ্ধ মা বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে। যা একেবারেই উচিত নয়। সমাজে তাঁদের মূল্যই বেশি। সমাজ যাতে এই বার্তা বোঝে, তার জন্য এই আয়োজন করেছি।”
বৃদ্ধার পাঁচ মেয়ে তিন ছেলে। ভরা সংসারের এখনও মাথা অন্নপূর্ণা দেবী। লাঠি ছাড়াই হাঁটতে পারেন তিনি। চোখেও পরিষ্কার দেখতে পান। শুধু তাই নয়, বাড়িতে কাপড় কাচা, বাসন মাজা, রান্না করা, জল তোলা সবই একা হাতে করতে পারেন তিনি। তবে অন্নপূর্ণা দেবী কোনওদিনই মাংস মুখে তোলেননি। স্রেফ নিরামিশ খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন এতগুলো বছর। তবে তাঁর ১০১ তম জন্মদিনে আয়োজনের কোনও ত্রুটি রাখেননি তাঁর ছেলেমেয়ে নাতি নাতনিরা।
জন্মদিনের কথা জিজ্ঞাসা করতেই জীবনের রঙে মজে থাকা তরুণী ঠাম্মা বলে উঠলেন, ”খুব ভালো লাগছে নাতি-নাতনিদের জন্য এত সুন্দর একটা দিন দেখলাম।”
