Raju Jha News : রাজেশ খুনে কি সাব কন্ট্র্যাক্ট দেওয়া হয়েছিল? ঝালমুড়ি, গুটখা আনানো নিয়ে রহস্য – even after 13 days of the murder of coal mafia rajesh jha the culprits are still at large


এই সময়, বর্ধমান: কয়লা মাফিয়া রাজেশ ঝা খুনের ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও অধরা দুষ্কৃতীরা। এর মধ্যে নতুন দু’টি প্রশ্ন উঠে এসেছে পুলিশি তদন্তে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ একটি বিষয়ে নিশ্চিত যে, নীল ব্যালেনো গাড়িতে আসা দুষ্কৃতীদের কাছে রাজেশ ছিল অচেনা। ঘটনাস্থলে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা এক অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিই পিছন থেকে রাজেশকে চিনিয়ে দিয়েছিল। তার পরেই চলে গুলি। যদিও অজ্ঞাতপরিচয়ের সেই ব্যক্তি কোনও গুলি চালায়নি। প্রথম প্রশ্ন, ঘটনার পর পরই দুষ্কৃতীদের গাড়িতে চেপে পালিয়ে যাওয়া সেই ব্যক্তি কে?

Raju Jha News : নীল গাড়ির পর রহস্য নীল মোটর বাইকেও!
অন্য দিকে, তদন্তের প্রথম থেকে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন আব্দুল লতিফ, ব্রতীন মুখোপাধ্যায় ও রাজেশ ঝা ঠিক করেছিলেন, জলখাবারের জন্য প্রতিবারের মতো শক্তিগড়ের ল্যাংচা কুঠিতেই তাঁরা দাঁড়াবেন। কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে ওই দোকানের ২০০ মিটার আগে আদি ল্যাংচা প্যালেস-এর সামনে দাঁড়ায় রাজেশের গাড়ি?

Raju Jha : সঙ্গে কেন ছিল না তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক!
যদিও পুলিশের দাবি, রাজেশ নাকি নিজেই ওই দোকানের সামনে দাঁড়ানোর জন্য বলেছিলেন। যাঁর কাছ থেকে তাঁরা ঝালমুড়ি কিনেছিলেন সেই বিক্রেতা জানিয়েছেন, সেদিন প্রায় দোকান বন্ধের সময়েই গাড়িটি আসে। ৩ বারে ৩ ঠোঙা ঝালমুড়ি দিতে বলেন এক জন। এ ছাড়াও পুলিশ জানতে পেরেছে, সেদিন সবাই গাড়িতে ওঠার পরে ফের গুটখা আনার জন্য গাড়িচালক নুর হোসেনকে নামতে বলেন ব্রতীন। এর ঠিক পরেই পিছন থেকে এসে পড়ে নীল গাড়িটি। দ্বিতীয় প্রশ্ন, তা হলে কি সেদিন ঘটনাস্থলে দুষ্কৃতীদের আসা অবধি সময় চুরি করতেই নানা অছিলায় দেরি করানো হচ্ছিল?

Raju Jha : হরিয়ানার নীল গাড়িই শক্তিগড়ের অপারেশনে
পুলিশকে ভাবাচ্ছে, গোটা অপারেশনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও কেন রাজেশ-খুনে কম ক্ষমতাসম্পন্ন ৭.৬৫ এমএম রিভলভার ব্যবহার করা হলো? সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, প্রথমবার গুলি চালানোর পরে রিভলভারটি আটকে যায়। এমনকী একবার এক দুষ্কৃতীর হাত থেকে রিভলভার পড়েও গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে কি দুষ্কৃতীরা যথেষ্ট দক্ষ ছিল না? তাহলে কি এই অপারেশনের মূল মাথা নিজের লোকেদের দিয়ে কাজ না করিয়ে সাব-কন্ট্র্যাক্ট দিয়েছিল? এ সবও ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়না-তদন্তের সময়ে রাজেশের শরীর থেকে ৪টি গুলি বার করা হয়। অথচ তাঁর দেহে ৭টি গুলির ছিদ্র ছিল। ৩টি গুলি শরীর থেকে বার করা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। ৯ এমএম বা সমগোত্রীয় কোনও আগ্নেয়াস্ত্র হলে একটি গুলিতেই মারা যেতে পারতেন রাজেশ।

Raju Jha : রাজেশ খুনে জেলবন্দি ডন আমনই মাস্টারমাইন্ড?
পুলিশের ধারণা, রিভলভারগুলি কম ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় একবার গুলি চালানোর পরে, শেষে একেবারে কাচের কাছে বন্দুক ঠেকিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা? ময়না-তদন্তের রিপোর্টে পরিষ্কার, শরীরের অন্য অংশ ছাড়াও ফুসফুসে গুলি লেগেছিল। আর সেই কারণেই রাজেশের মৃত্যু হয়েছে। অন্যত্র গুলি লাগলে হয়তো তিনি বেঁচেও যেতে পারতেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *