এই একই ইস্যুতে কটাক্ষ করেশুভেন্দু অধিকারীটুইটে লেখেন,”লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা না জমা পড়লেও নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের কোনও চিন্তা নেই। দেউলিয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনৈতিকভাবে অন্য বরাদ্দের টাকা অথবা কোষাগার শূন্য করে হলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেবে।” অনৈতিক বরাদ্দ অন্য খাতে ব্যয় হিসেবে বিরোধী দলনেতা WB Beverage Corporation-এর চার হাজার কোটি টাকা ও WB Mineral Development & Trading Corporation Ltd -এর ২৩০০ কোটি টাকার ফান্ডের উল্লেখ করেছেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা জমা না পড়া নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই টুইটের প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের। তিনি বলেন, ”শুভেন্দু অধিকারীর কথার উত্তর দেওয়ার কোনও মানে নেই। সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। সারদা-নারদায় অভিযুক্ত। সারদায় সিবিআইয়ের চার্জশিটে থাকা মাল। একটা রাজনৈতিক বেজন্মা, চার্জশিট থেকে বাঁচতে এই ধরনের কুৎসা করে চলেছে। ওতো নিজেও একসময় এই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিল। এখন গ্রেফতারি এড়াতে বিজেপি যেমন বলছে তেমন ঘেউ ঘেউ করে চলেছে।”
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্রভাবে আক্রমণ করলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা না জমা পড়া নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রতিবাদী ধরনা প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, ”প্রথমত, তৃণমূল কখনও দল দেখে রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা দেয় না। এর সব থেকে বড় প্রমাণ দিলীপ ঘোষের পরিবার। যারা স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড করিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, অধীরবাবুকে ধন্যবাদ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা না পড়া বিষয়টিকে নিয়ে তিনি আন্দোলন করছেন। অর্থাৎ তিনি বুঝিয়ে দিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মানুষের উপকারে লাগে। সেটা সময়ে না পড়লে তার প্রভাব পড়ে। অধীর বাবুরা এই নিয়ে ধরনায় বসে সেটা প্রমাণ করে দিলেন।” একইসঙ্গে তিনি জানান, কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হয়ত টাকা পড়েনি। ব্যাপারটা প্রশাসন খতিয়ে দেখছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে এমন বেনজির আক্রমণের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে গেরুয়া শিবির। নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে করা এমন মন্তব্যের নিন্দা করেছেন বিজেপি সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বলেন, ”এতে তো একটাই কথা বলা যায়। কুণাল ঘোষ একজন জেল খাটা কয়েদি। তাঁর কথায় কেন উত্তর দেব। ওদের পুরো দলটাই তো অপরাধীদের নিয়ে অপরাধীতে ভর্তি। আজকে একে ডেকে পাঠাচ্ছে ইডি সিবিআই। নীচ থেকে উপর, এর বউ এর শালী সবাইকে দুর্নীতি মামলায় ডাকা হচ্ছে। পুরো পরিবার দুর্নীতিতে ডুবে। উনি আবার যা বলছেন, তা হুবহু দুর্নীতিতে গ্রেফতার ১০০ কোটির মালিক কুন্তলের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ওকে নিয়ে কোনও কথা বলতেই চাই না।”
