কোন কোন রুটে ট্রাম ফেরানোর পরিকল্পনা?
টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, WBTC-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজানভির সিং কপুর একটি PIL-এর জবাবে হলফনামা জমা করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টে জমা করা এই হলফনামায় বলা হয়েছে,সাতটি রুটে ট্রাম পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। তালিকায় রয়েছে ২৯ নম্বর রুটের টালিগঞ্জ-এসপ্ল্যানেড, ২৪ নম্বর রুটের বালিগঞ্জ-এসপ্ল্যানেড, ৬ নম্বর রুটের শ্যামবাজার-বিবাদি বাগ, ১৬ নম্বর রুটের বিধাননগর-বিবাদি বাগ, ১৭ নম্বর রুটের বিধাননগর-হাওড়া ব্রিজ, ১৮ নম্বর রুটের বিধাননগর-বিবাদি বাগ এবং ৩৬ নম্বর খিদিরপুর-এসপ্ল্যানেড।
বর্তমানে কলকাতায় ৫ নম্বর রুটে শ্যামবাজার থেকে এসপ্ল্যানেড, ২৫ নম্বর রুটে গড়িয়াহাট থেকে এসপ্ল্যানেড এবং ২৪/২৯ নম্বর রুটে বালিগঞ্জ থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত ট্রাম চলে।
কী কী কারণে বন্ধ হয় ট্রাম চলাচল?
উল্লেখ্য, সাতটি রুটের ট্রাম লাইন আপাতত ব্লকড। সেই জট খোলা সম্ভব হলে তবেই সাতটি রুটে পুনরায় ট্রাম চলাচল সম্ভব। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক এবং জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড রুটের মেট্রো প্রকল্পের জন্য দক্ষিণ এবং মধ্য কলকাতার একাধিক ট্রাম রুট বন্ধ হয়ে যায় রাতারাতি।
জানা গিয়েছে, রাজানভির সিং কপুর হলফনামায় জানিয়েছেন,জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রজেক্টের জন্যই মোমিনপুর-এসপ্ল্যানেড রুটে ট্রাম চলাচল সাময়িক বন্ধ করতে হয়েছে। RVNL-এর মেট্রো প্রজেক্টের কাজ শেষ হলে তবেই এই রুটে ফের ট্রাম চালানো সম্ভব হবেয যা ২০২৫ সালের আগে কোনওভাবেই সম্ভব নয়। টালিগঞ্জ-এসপ্ল্যানেড এবং কালিঘাটের ট্রাম ডিপোও সেই সময়ের মধ্যে পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
পুনরায় চালু করার আগে বালিগঞ্জ এবং টালিগঞ্জ ডিপোতে দাঁড়ানো ট্রামগুলির সংস্কার প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে রাজ্যের হলফনামায়। এর জন্য নোনাপুকুর ট্রাম ডিপোর সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হবে ট্রামগুলি।
এছাড়াও হলফনামায় বলা হয়েছে, খিদিরপুর থেকে এসপ্ল্যানেড রুটের মধ্য ময়দানে একটি ওভারহেডের কাজের জন্য এই রুটে পরিষেবা বন্ধ করা হয়। একইসঙ্গে শিয়ালদা উড়ালপুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর KMDA এবং PWD-র পরামর্শে ফ্লাইওভার এবং আরজি কর রোড ব্রিজের উপর দিয়ে ট্রাম চলাচল বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি যানজটের কারণে গালিফ স্ট্রিট থেকে বাগবাজার হয়ে বিবাদি বাগ পর্যন্ত রুটের ট্রাম পরিষেবা বন্ধ করা হয়। কলকাতা পুলিশ এই এলাকায় একমুখী গাড়ি চলাচলের নির্দেশ দেয়। এই রুটে রবীন্দ্র সরণীতে দ্বিমুখী যান চলাচল শুরু হলে পুনরায় চিৎপুর রোড দিয়ে ট্রাম যেতে পারবে বলেই অনুমান রাজ্যের।
এদিকে,মেট্রোর মহাকরণ স্টেশন নির্মাণের কারণে বিবাদি বাগেও ট্রাম চলাচল বন্ধ করা হয়। তবে বর্তমানে ওই স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে এবং এলাকা ক্যালকাটা ট্রাম কোম্পানিকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও খবর। সবকটি রুটে ট্রাম ফেরাতে আরও বছর দু’য়েক সময় লাগবে বলেই উল্লেখ করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে জমা করা হলফনামায়।