শনিবার কালিয়াগঞ্জে মৃত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এদিন দুপুরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক মিলে রাজ্য সভাপতির নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যান। কিশোরীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা হয় তাঁদের।
এদিন সাহেবঘাটা যান বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী, উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু, ইংরেজ বাজারের বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী সহ বিজেপির রাজ্য প্রতিনিধি দল। কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। মৃতার শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে আগামীদিনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিজেপি নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে পালোইবাড়ি এলাকার একটি পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার হয় দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠরতা কিশোরীর মৃতদেহ। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে সাহেবঘাটা সংলগ্ন এলাকা। পুলিশকে ঘিরে দফায় দফায় চলে বিক্ষোভ। পালটা পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। মুহূর্তে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ওই এলাকা। এই ঘটনায় অবশ্য বেশ কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ।
অন্যদিকে, শনিবার ফের রাজনৈতিক মহলের চর্চায় উঠে আসে নাগরিকত্ব এবং এনআরসি ইস্যু। এদিন সকালেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনওভাবেই NRC হতে দেব না। স্পষ্ট বলে দিয়েছি। ভরসা রাখুন। আমরা লড়াই করব। আমরা সাহসের সঙ্গে কাজ করব। ভয় পাব না।” বিষয়টি নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ” উনি আগে বলতেন CAA করতে দেব না। এখন বলছেন NRC করতে দেব না। তার মানে CAA করতে দেবেন ? ওঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।”
এরপরেই বিজেপি রাজ্য সভাপতির মুখে উঠে আসে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ। সুকান্ত বলেন, “বাংলাদেশ থেকে যে সব রোহিঙ্গারা ঢুকেছে, তাদের কী হবে ? মুখ্যমন্ত্রী কি চান, পাকিস্তান থেকে, আফগানিস্তান থেকে বা বাংলাদেশে থেকে যারা বছরের পর বছর ঢুকছে তারা পশ্চিমবঙ্গে এসে থাকুক ?” নাগরিকত্ব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের নীতি পরিষ্কার করে জানাক বলে দাবি করেন বিজেপি সাংসদ।