সোমবার এক ভিডিয়ো বার্তায় মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাসের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই ভিডিয়ো বার্তায় রাজ্যের শাসকদলকে একের পর এক আক্রমণ করেন তিনি। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের বুথের প্রস্তুতি কেমন হবে, সেই বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়েই ঝাঁঝালো বক্তব্য উঠে আসে তাঁর মুখে।
বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাসকে বলতে শোনা যায়, “বুথে বুথে প্রস্তুত রাখা হবে কাঁচা বাঁশ ৷ বাঁশ দিয়ে মেরে হাসপাতালে না সোজা শ্মশানে পাঠানো হবে।” এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল যাতে বুথ দখল করতে না পারে সে কারণে কর্মীদের ‘কাঁচা লঙ্কা বাটা, সরষে বাটা’ প্রস্তুত রাখতে বলেন তিনি। অরূপ বলেন, “তৃণমূল নেতারা বুথ দখল করতে এলে চোখে মুখে কাঁচা লঙ্কা বাটা মাখিয়ে দেওয়া হবে।”
স্বাভাবিকভাবেই, জেলা বিজেপির এই নেতার মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে। বিজেপি ভাষা সন্ত্রাস করেই বেঁচে রয়েছে বলে দাবি করেন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ঘাটালে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায় ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি রামকুমার দে-কে। বিজেপির দক্ষিণ মণ্ডলের উদ্যোগে চন্দ্রকোনার কুঁয়াপুরে একটি মিছিলের আয়োজন করে বিজেপি। সেই মিছিল থেকেই তৃণমূলের উপর ক্ষোভ বর্ষণ করেন বিজেপি নেতা।
রামকুমার দে-কে বলতে শোনা যায়, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাঁচা বাঁশ সঙ্গে থাকবে। আত্মরক্ষার অধিকার মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে। তাই যদি এসে উপদ্রব কর তাহলে হাসপাতালের একটা বেডও খালি রাখবো না। ঠ্যাং ভেঙে হাসপাতালে বসিয়ে দেব বন্ধু।”
Sukanta Majumdar: ‘সময় আছে শুধরে যান…’ হুঁশিয়ারি সুকান্তের
একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত জেলার রাজনীতি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যথেচ্ছ ভোট লুট, সন্ত্রাস, গা জোয়ারির অভিযোগ ওঠে শাসক বিরুদ্ধে। তারই ফলশ্রুতি হিসাবে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বার্তা দিচ্ছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেটা আদৌ কতটা হবে তা ভবিষ্যত বলবে।