তারপরেই ব্যাঙ্কে জানান প্রতারিত ব্যক্তি এবং থানায়ও জানান। মিষ্টির দোকানে বিনামূল্যে UPI পেমেন্ট চালু করে দেওয়ার টোপ দিয়ে ATM কার্ড বদলে অন্য একটি কার্ড মিষ্টির দোকানের বয়স্ক মালিকের হাতে ধরিয়ে চলে যায় এক ব্যক্তি। তারপর দু’তিনদিন কেটে যাওয়ার পর জানা যায় ৮১ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে অ্যাকাউন্ট থেকে।
যদিও আসল টাকার অঙ্ক আরও ২-৩ হাজার বেশি। বারাসতে মোটর মেকানিকের পর জানা গেল এবার এক মিষ্টি দোকানদারের সঙ্গে সাইবার প্রতারণা। ঘটনাটি বারাসতের হৃদয়পুর এলাকায় ঘটে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ। সমস্ত বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মিষ্টি ব্যবসায়ী বিপুলকান্তি বিশ্বাস।
জানা গিয়েছে, হঠাৎ করেই ১ জন সুসজ্জিত যুবক হৃদয়পুরে বিপুলকান্তি বিশ্বাসের মিষ্টির দোকানে আসেন। দোকানে একজন এলেও বাইরে আরও কেউ ছিল বলে ধারণা। বয়স্ক বিপুল বাবুকে যুবক বলেন, “UPI রাখেন না কেন? দোকানে অনলাইনে বেচাকেনা করা জরুরি। আপনি ATM কার্ড দিন, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে UPI করে দেব।”
এরপরেই সাতপাঁচ না ভেবে বিপুল বাবু ATM কার্ডটি যুবককে দেন। সেই সময় দোকানে ছিল না ছেলে অনির্বান। কিছুক্ষণ দোকানে বসে থাকার পর কার্ড দিয়ে ওই যুবক চলে যান। ওই যুবক দামি একটি বাইক নিয়ে এসেছিল। তার নাম ঠিকানা এবং ফোন নম্বরও দিয়ে যায় বিপুল বাবুকে।
তারপর অনেকদিন কেটে যায়, বিপুল বাবুর ফোনে কোন মেসেজ আসে না এবং তিনি জানতেও পারেন না। পরে মিষ্টি ব্যবসায়ী তার কার্ড নিয়ে এক দোকানে গিয়ে কার্ড পাঞ্চ করতেই বুঝতে পারেন কার্ড ঠিক নয় বা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেইমত শুক্রবার ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্টে থাকা ৮১ হাজার টাকার বেশি গায়েব হয়ে গিয়েছে।
ওইদিনই বারাসত থানায় অভিযোগ জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে বিপুলবাবুর ছেলে অনির্বাণ বিশ্বাস বলেন, “বাবা বয়স্ক মানুষ। সাইবার প্রতারণা নিয়ে অভিজ্ঞ নন। আমার বাবাকে যে কার্ডটি দেওয়া হয়েছে তাতে মধুসূদন আগরওয়ালের নাম লেখা রয়েছে। সমস্ত বিষয়টি নিয়ে আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”
দু’মাস কেটে গিয়েছে, সেই টাকা কিভাবে উদ্ধার হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এই ঘটনার আদৌ কোনও সুরাহা হবে কিনা তা জানেন না, বলেন বিপুল বাবু। তার ছেলে অনির্বাণ মনে করছেন, যে ঘটনা তাদের সঙ্গে ঘটেছে, আর কারও সঙ্গে যেন না ঘটে তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন। তাদের টাকা উদ্ধার না হলেও অপরাধী যেন ধরা পরে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
