কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। স্ত্রী, বৌমা এবং এক বছরের নাতনি সহ BSF-এর হাতে ধরা পরলেন এই বাংলাদেশি নাগরিক। এই ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের মানিকগঞ্জ এলাকার সিঙ্গিমারিতে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে। জলপাইগুড়ি কোতয়ালী থানা সুত্রের খবর, বেআইনি ভাবে এদেশে প্রবেশের অপরাধে বিমল অধিকারী সহ তার পরিবারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের নারায়নপুর পিরগঞ্জের বাসিন্দা বিমল অধিকারীর ছেলে দীর্ঘ বছর থেকে শিলিগুড়ি সংলগ্ন পানিট্যাঙ্কি এলাকায় রয়েছেন। সেখানে তিনি সুপারির ব্যবসা করে। তাই ছেলের সঙ্গে দেখা করতে বিমলবাবু, তাঁর স্ত্রী মালতি রানি অধিকারী, বউমা ঝর্না অধিকারী এবং একবছরের নাতনি কে নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সিঙ্গিমারির সীমান্ত দিয়ে এদেশে প্রবেশের জন্য কাঁটাতার পেরিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন।
কিন্তু BSF-এর নজরে পড়ে যাওয়ায় সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এর পরে ধৃতদের জলপাইগুড়ি পুলিশের হাতে তুলে দেওয় হয়। এই বিষয়ে বিমল অধিকারী জানান, “আমার ছেলে দীর্ঘ অনেক বছর ধরেই পানিট্যাঙ্কি এলাকায় থেকে ব্যবসা করছে। তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম।
বৈধভাবে কাগজপত্র করে যদি আসতে চাইতাম, তাহলে অনেকদিন লেগে যেত। এমনিতেই নাতনি হওয়ার পর থেকে অনেকদিন নিজের মেয়েকে দেখেনি আমার ছেলে। তাই ভেবেছিলাম যদি কোনোভাবে এসে দেখা করা যায়। কিন্তু এভাবে আসতে গিয়ে আবার আলাদা বিপদে পড়লাম”।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে বাংলাদেশের। এই দীর্ঘ সীমান্তে প্রায়দিনই বেআইনিভাবে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে গিয়ে BSF-এর হাতে ধরা পড়েন শত শত বাংলাদেশি নাগরিক। পরে তাঁদের আবার আইন অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই সমস্যার সমাধান যে কবে হবে, একথা বলতে পারেন না BSF বা বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনও কর্তাই।
