মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য: নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামিকাল ওই নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরদিন অর্থাত্ বুধবার তা ঘূর্ণিঝড় মোকা-য় পরিণত হবে। কিন্তু সেই ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ হবে কোনদিকে? ত্রস্থ ছিল পশ্চিমবঙ্গ। ১১ তারিখ পর্যন্ত ঝড়ের অভিমুখ উত্তর-উত্তরপশ্চিম হয়ে পরে তা পূর্ব-মধ্যে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোবে। তার পর তা বাঁক নিয়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলের দিকে এগোবে। ফলে আপতত ফাঁড়া কাটল বাংলার। তবে ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে তাপপ্রবাহ হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। এখনওপর্যন্ত আন্দামান ও নিকোবরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-পার্থ ঢুকতেই আদালত চত্বরে উঠল চোর চোর স্লোগান, পাল্টা জবাবও দিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী
কেন তাপপ্রবাহ হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে? আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য, বঙ্গোপসাগরে ঘণিভূত নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তা বাংলা থেকে জলীয়বাষ্প টেনে নেবে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া শুকনো হয়ে যাবে। ফলে বাড়বে তাপমাত্রা। এতে মঙ্গলবার বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান ও দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের তাপপ্রবাবহের সম্ভবনা। পরদিন পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহ হতে পারে। এর ফলে কলকাতার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পার করার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৪২-৪৩ পর্যন্ত উঠতে পারে। উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে। আপাতত ১১ মে পর্যন্ত পশ্চিমঙ্গের জন্য কোনও সতর্কতা নেই। ঘূর্ণিঝড় রাজ্যের কতটা কাছ দিয়ে যাবে তার উপরে নির্ভর করেছে সতর্কতা।
এদিকে, মোকা-র কাথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৯ ও ১০ মে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ও হবে। ১১ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকবে। সুন্দরবন ও দিঘা এলাকায় বাড়ি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নবান্নে ইতোমধ্যেই কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে বলে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলাতেও কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। বিপদজ্জনক জেলাগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সকাল সাড়ে আটটায় আন্দামান সাগরের কাছে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। ১১ তারিখ অভিমুখ বদল হবে বলেও জানা গিয়েছে। গতিপথ পাল্টে স্থলভাগের দিকে আসবে এই ঝড়, এমনটাই জানা গিয়েছে। বাংলাদেশ মায়ানমার উপকুলের দিকে যাওয়ার কথা।
