আর শুভ কাজে মিষ্টিমুখ করা তো বাঙালি সমাজেরই রীতি। অনেকেই হয়ত জানেন, কবিগুরু নিজেও ছিলেন একজন বড় মিষ্টি প্রেমী। হুগলি জেলার চন্দননগরে তিনি ছিলেন বেশ অনেকদিনই।
আর এখানে এসে মিষ্টি খেয়ে সেই মিষ্টির নামকরণ নিজেই করেছিলেন কবিগুরু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজের জীবনের বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে গিয়েছিলেন চন্দননগরে। সেই সময়তেই চন্দননগরের একটি মিষ্টান্ন দোকানের মিষ্টি আসত তাঁর কাছে।
জানা গিয়েছে, চন্দননগরের সূর্য মোদকের মিষ্টি ছিল রবীন্দ্রনাথের খুব প্রিয়। এক ধরনের বিশেষ সন্দেশ আছে যার নাম মতিচুর সন্দেশ। আর এই নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই নামকরণের তাৎপর্যও রয়েছে। এই সন্দেশ হাতে নিলেই তা মুক্তর মতো চূর্ণ হয়ে যায়।
সেই থেকেই তিনি এই সন্দেশের নাম দিয়েছিলেন মতিচুর সন্দেশ। দোকানের বর্তমান মালিক ভাগ্যশ্রী মোদক এই বিষয়ে বলেছেন, “এই কথিত ইতিহাস শুনেই আমি বড় হয়েছি। আমি শুনেছি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে এই মতিচুর সন্দেশকে বলেছিলেন এই সন্দেশ মুখে দিয়ে যতক্ষণ চিবানো যায় ততক্ষণই তার স্বাদ মিষ্টি থাকে। এছাড়াও তা হাতে নিলেই একেবারেই গুঁড়ো হয়ে যায়। যা দেখলে মনে হয় একটি মুক্তকে যদি গুঁড়ো করা হয় বা চূর্ণ করা হয় তা যেমন হয় ঠিক তেমনি দেখতে।
সেই থেকেই এই সন্দেশের কবিগুরু নাম দিয়েছিলেন মতিচুর সন্দেশ।”
অতীতের সেই সময় থেকেই এখনও পর্যন্ত ইতিহাস বহন করে নিয়ে আসছে চন্দননগরের সূর্য মোদকের এই মতিচুর সন্দেশ। পাঁচটি প্রজন্ম পেরিয়ে দোকানের বর্তমান প্রজন্ম এখনও পর্যন্ত ধরে রেখেছে সেই মিষ্টির ঐতিহ্য। সেই আগের প্রথা মেনেই এখনও দুধ ক্ষীর দিয়ে তৈরি করা হয় এই মতিচুর সন্দেশ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চন্দননগরের পাতাল বাড়িতে বসে তিনি তাঁর অনেক উপন্যাসও রচনা করেছেন। ‘বউ ঠাকুরানীর হাট’ যার মধ্যে অন্যতম। এই উপন্যাস তিনি রচনা করেছিলেন পাতাল বাড়িতে বসেই। যা আজও গর্বিত করে চন্দননগরবাসীদের।
