কিন্তু রাজ্যের মিউনিসিপাল অ্যাক্টে একজন ডেপুটি মেয়র থাকার কথা আইনে রয়েছে। সেক্ষেত্রে আইনের সংশোধনীর প্রয়োজন ছিল। রাজ্য মন্ত্রিসভায় সেই আইনে সংশোধনী বিল পাস হয়। কিন্তু আটকে যায় তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে।
তিনি সেই সংশোধনী বিলে সই করেননি। পরবর্তীকালে রাজ্যপাল বদল হলে বর্তমান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস সেই সংশোধনী বিলে সই করলে দ্বন্দ্ব কেটে যায়।
সেইমতো দুই ডেপুটি মেয়র আজ বুধবার শপথ গ্রহণ করলেন। শপথ গ্রহনের পর দুই ডেপুটি মেয়র জানান, আগামী দিনে আসানসোল পুরনিগমের ১০৬ টি ওয়ার্ডে উন্নয়ন করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।
BJP-র রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এদিন জানিয়েছেন, “রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের ভাই ও সংখ্যালঘুদের সন্তুষ্টি করতেই দুজন ডেপুটি মেয়র করা হল। এটা আসলে ওদের দলের গোষ্ঠী কোন্দলের ফল। আসানসোলের জায়গায় জায়গায় তৃণমূলের ছোট বড় অনেক গোষ্ঠী রয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাতে ঝামেলা না লাগে সেই কারণেই এটা করা হল। এতে আসানসোলের নাগরিকদের কোনও সুবিধে হবে না। এই মুহূর্তের তীব্র গরমে প্রচুর জায়গাতে পানীয় জল পাচ্ছেন না মানুষ। সেদিকে পুরনিগমের কোনও দায়িত্ব নেই। শুধু এসব করেই সময় নষ্ট করা হচ্ছে।”
যদিও এই বিষয়ে অভিজিৎ ঘটকের পালটা মন্তব্য, “রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও দুটি ডেপুটি মেয়র হবে। তাঁরা কিন্তু প্রত্যেকেই মন্ত্রীর ভাই হবে না। এগুলো শুধু শুধু অপপ্রচার করা হয়। বিরোধীদের হাতে কোনও কাজ নেই। তাই ওরা খালি অপপ্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে।”
আরেক ডেপুটি মেয়র ওয়াসিম উল হক বলেন, “আসানসোল পুরনিগমের মধ্যে রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, কুলটি এসব এলাকাগুলিও পড়ছে। সব জায়গায় সমস্যার সমাধান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠবে। যাতে আগামী দিনে মানুষ আরও ভালো পরিষেবা পান।”
