কাউন্সিলরের অভিযোগ, তাঁর ওয়ার্ডে গরিব মানুষদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের মানুষদের নাম আবাস যোজনার তালিকায় যোগ করা হয়েছে। এমনকি ওভারসিয়ারকে দিয়েও কাজ করানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কাউন্সিলরের দাবি, তালিকা আলাদা হওয়ার ফলে তাঁকে প্রতিনিয়ত অপমানিত হতে হচ্ছে। সেই কারণে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে, তিনি পুরপ্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন। যদিও কাউন্সিলরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুরপ্রধান।
মানিক মুখোপাধ্যায় নামে ওই কাউন্সিলর বলেন, ‘আমি পুরসভার চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী আধিকারিককে চিঠি দিয়েছি। এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও আমাকে অন্ধকারে রেখে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আমার দেওয়া তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরফলে মানুষের কাছে আমি অপমানিত হচ্ছি। তালিকা থেকে গরিবদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় ধনীদের নাম রয়েছে। আমাদের ওয়ার্ডে গরিব মানুষদের নাম তালিকায় নেই। এটা অন্যায়। মুখ্যমন্ত্রী সবার বাড়ির যে স্বপ্ন দেখছে তার পরিপন্থী।’
পুরসভার চেয়ারম্যান পীযূষ পাণ্ডে বলেন, ‘সরকার অনুমোদিত যে তালিকা, তা সবাইকে দেওয়া হয়েছে। হাউস ফর অল্ স্কিমে অনুমোদন হওয়ার পর তালিকায় নতুন করে নাম ঢোকানো বা বাদ দেওয়া যায় না। দুবরাজপুর পুরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকাকালীন কিছু মানুষ সরাসরি পৌরসভায় এসে প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেরকমই কিছু বাড়ি হয়তো অনুমোদন পেয়েছে। কাউন্সিলারের কথা অনুযায়ী তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন করে নাম সংযোজন করা সব কিছুর জন্য চেয়ারম্যানের অনুমোদন প্রয়োজন।’
জনসংযোগ যাত্রা নিয়ে জেলায় রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল জেলে। সেখানে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে শাসকদল। একই ওয়ার্ডে দুরকম তালিকা, জনপ্রতিনিধির কাছে একরকম তালিকা এবং পুরসভার আরেক রকম তালিকা। এসব কি শুধুমাত্র পৌরসভার কর্মীদের গাফিলতির কারণে হয়েছে? প্রশ্ন করছেন অনেকে।
