IPL Today: অনলাইন অ্যাপে আইপিএল বেটিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার ১, উদ্ধার পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা – one arrested for ipl online betting from durgapur


আইপিএল জ্বর তুঙ্গে। চলছে প্লে অফের ওঠার চূড়ান্ত পর্যায়ের টক্কর। আইপিএল উত্তেজনা চরমে উঠতেই চাঙ্গা বেটিং বাজারও। ফের
অবৈধভাবে আইপিএল বেটিংয়ের অভিযোগ। বেটিং চক্র চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার এক। তার কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা উদ্ধার করেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ।

আইপিএল কে ঘিরে বেটিংয়ের অভিযোগে সরগরম দুর্গাপুর। সেখানকার মেনগেট অঞ্চলের নিউ স্টিল পার্ক থেকে মহম্মদ নিয়াজ খান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। ধৃতকে শুক্রবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে চার দিনের হেফাজতে নেয় পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে পুলিশ চারটি মোবাইল ফোন, দুটি ডায়েরী ও নগদ ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। এ কথা জানিয়েছেন ডিসি (পূর্ব) কুমার গৌতম।

IPL Betting : আইপিএল বেটিং চক্রের পর্দা ফাঁস, দুদিনে অসমে গ্রেফতার ১৩

বৃহস্পতিবার ছিল আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রাজস্থান রয়েলসের ম্যাচ। ম্যাচ শুরু হতেই চালু হয়ে যায় বেটিং। বেশ কয়েকদিন ধরেই বেটিং চক্রের উপর নজর ছিল পুলিশের। অবৈধ বেটিং অ্যাপ এর লোকেশন ট্র্যাক করে মহঃ নিয়াজকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ । দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের কাছে খবর ছিল এই বেটিং চক্রের। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ।
ধৃত নিয়াজকে শুক্রবার আদালতে পেশ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে জনৈক “ছোটকার” নাম উল্লেখ করে সে। ধৃত ব্যক্তি জানায় যে, ছোটকা পয়েন্ট দেখত।

Asansol News : নামী কোম্পানির স্টিকার লাগিয়ে দেদার বিক্রি! পুলিশি অভিযানে আটক ৬০০০ কেজি নুন

দুর্গাপুরে ক্রিকেট জুয়ার মাস্টার মাইন্ড

কে এই ছোটকা? এক্ষেত্রে “পয়েন্ট” ই বা কি ? জানা যাচ্ছে গত কয়েক বছর ধরেই আইপিএলকে ঘিরে দুর্গাপুরে ক্রমাগত সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেটিং চক্র। জানা গেছে এই জুয়া চক্রের দুর্গাপুরে মাস্টারমাইন্ড ছোটকা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পয়েন্ট তৈরী করে সেখানে নিজের এজেন্টকে দিয়ে এই বেটিং চক্র চালাত সে। মেনগেট , বেনাচিতি,ইস্পাত কলোনির কনিষ্ক , মায়াবাজার ইত্যাদি বহু জায়গায় ছিল এই পয়েন্ট। এই সব পয়েন্টে থাকত তার নিজস্ব লোকেরা। বিগত কয়েক বছরের মধ্যেই সে এই বেটিং চক্রের মাথা হয়ে ওঠে। আইপিএল চলাকালীন প্রতিদিনই সক্রিয় হয়ে ওঠে বেটিং চক্র।

Sachin Tendulkar : বিনা অনুমতিতে বিজ্ঞাপনে নাম ব্যবহার, পুলিশের দ্বারস্থ সচিন তেন্ডুলকর

জানা গিয়েছে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে খেলা হয়। নির্দিষ্ট ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে এই অ্যাপে প্রবেশ করা যায়। এভাবে গোটা শহরের এক বড় অংশের মানুষের মধ্যে এই বেটিং ছড়িয়ে দিতে সক্ষমও হয়েছিল চক্রীরা। প্রতিদিন প্রায় কয়েক লাখ টাকা মুনাফা হত চক্রের মাথাদের বলে খবর। ফলে গত কয়েকবছরের মধ্যে বেটিং কারবারীদের জীবনযাত্রার মানও উল্লেখযোগ্য ভাবে পরিবর্তন হয়েছিল।

জিতলেই বিদেশ ভ্রমণ!

পুলিশ সূত্রে খবর, ছুটি কাটাতে এরা হামেশাই পাড়ি জমাত মালয়েশিয়া,থাইল্যান্ড,ফুকেট ইত্যাদি স্থানে। সুত্রের খবর বেনাচিতির কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত রয়েছে ছোটকা সহ এই চক্রের মাথাদের ওপর। মুলত ওই প্রভাবশালীদের বদান্যতায় দিনে দিনে ফুলে ফেঁপে উঠেছে বেটিং চক্র। এক শ্রেণীর মানুষ যেমন এই বেটিংয়ের চক্করে সর্বস্বান্ত হয়েছে , তেমন পকেট ভারী হয়েছে বেটিং কারবারী সহ প্রভাবশালীদেরও।

Howrah News : ভিখারি সেজে গৃহস্থ বাড়িতে চুরির চেষ্টা! কোলের বাচ্চা সমেত হাতেনাতে ধৃত দম্পত্তি

মূলত দুটি ভাবে খেলা হয় এই বেটিং। এক তো এরা সরাসরি ম্যাচের ওপর লগ্নি করে। ম্যাচের আগেই নিজ পছন্দের নির্দিষ্ট টিমের ওপর বাজি রেখে চলে বেটিং। এই বেটিংয়ের লগ্নিমূল্য আগেই জমা করতে হয় নির্দিষ্ট একটি অ্যাকাউন্টে। এর পর পুরোটাই চলে বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। জিতলে তৎক্ষণাত টাকা চলে আসে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে। আর দ্বিতীয়ত যেটা হয়,সেটা একটু উঁচু লেভেলের। কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন মহানগরগুলিতে সাট্টার মাস্টারমাইন্ড দ্বারা পরিচালিত হয় এই বেটিং , যেখানে নির্দিষ্ট ওভার বা নির্দিষ্ট বল-এ কি ঘটবে তার ওপর বাজি ধরা হয়।

Financial Fraud : কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেফতার অসমের শীর্ষ আধিকারিক

পুলিশ সূত্রের খবর , ধৃতের কাছ থেকে “ছোটকা” সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে , যাদের মাধ্যমে দুর্গাপুরে এই বেটিং চক্রের জাল বিছানো হয়েছিল। যুব সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশকে এই নেটওয়ার্কে সামিল করা হয়েছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে চাইছে পুলিশ। এর পাশাপাশি কোন কোন প্রভাবশালীরা এই বেটিং চক্রের মদতদাতা , পুলিশের র‍্যাডারে তারাও নিশ্চিত ভাবে আসতে চলেছে বলেই সূত্রের খবর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *