দীর্ঘদিন ধরেই বৈষ্ণব নগরী মায়াপুরকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে শান্তিপুর ও মায়াপুরকে জলপথে এক সূত্রে বাঁধার জন্য গত বছরই নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো নতুন এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হল।
বর্তমানে শান্তিপুর লঞ্চ ঘাট থেকে হুগলির গুপ্তিপাড়া ঘাটে নদী পারাপারের জন্য দু’টি লঞ্চ পরিষেবা চালু রয়েছে। এর মাঝেই শান্তিপুর থেকে ভাগীরথীর উপর দিয়ে শুধুমাত্র পর্যটকদের জন্যেই এই অত্যাধুনিক লঞ্চ পরিষেবা চালু করা হল।
অত্যাধুনিক মানের নতুন এই লঞ্চটি শান্তিপুর থেকে পর্যটকদের নিয়ে ভাগীরথী জলঙ্গির মোহনা হয়ে মায়াপুরের ফেরি ঘাটে পৌঁছে যাবে। সেখানে কয়েক ঘণ্টার জন্য পর্যটকরা মন্দির দর্শন করে ফের এই লঞ্চে শান্তিপুরে ফিরে আসতে পারবেন। এমনটাই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে আপাতত। ভাগীরথীর উপর দিয়ে নৌকা বিহার পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী জানান, প্রথমবার যখন হুগলির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য শান্তিপুর দু’টি লঞ্চ চালু হয়, সেই সময়ই মায়াপুরকে সংযোগ করার ভাবনা নেওয়া হয়েছিল। পর্যটকদের পাশাপাশি কৃষ্ণভক্ত মানুষদের জন্য পুরসভার তরফে নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে পর্যটনের অনেকটা উন্নতি হবে বলে তিনি মনে করেন।
শান্তিপুর পুরসভা কিছুদিন আগে রাজ্যের জলপথ পরিবহণ দফতরের কাছে একটি অত্যাধুনিক লঞ্চের জন্য আবেদন করেছিল। সেই অনুমোদন মেলে। এরপরেই শুক্রবার রাতে কলকাতার বাবুঘাট থেকে লঞ্চটিকে নিয়ে আসা হয়। সোমবার থেকে নতুন এই পরিষেবার উদ্বোধন করা হয়। পরিকল্পনা সফল হলে আগামী লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করা হবে।
নতুন এই লঞ্চের মাধ্যমে যাত্রী পারাপারে বাড়তি সুবিধা হবে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক এই লঞ্চটি বিভিন্ন পর্যটন স্থানে দর্শনার্থীদের নিয়ে যেতে পারবে। পর্যটকরা একাধারে যেমন নদী পথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন, তেমনই জাতীয় সড়ক কিংবা রাজ্য সড়কের যানজট এড়িয়ে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে মায়াপুরে। মায়াপুর দর্শন করে ফের জলপথে শান্তিপুরে ফিরে আসতে পারবেন।
