Malda Court : স্ত্রীকে 2,50000 করে মাসে খোরপোশ, নজিরবিহীন নির্দেশ মালদা আদালতের – malda court gives instruction a man to give 2 and half lakh alimony for wife and child


বিদেশে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের মামলায় নজিরবিহীন নির্দেশ দিল মালদার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে শারিক জিয়ার সঙ্গে আফরিন পারভীনের বিয়ে হয়েছিল। দুই জনের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে। দুটি পুত্র সন্তান হয় তাঁদের। এরপর লন্ডনে চাকরি পেয়ে যান জিয়া। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই লন্ডনে থাকতেন তিনি।

Babita Sarkar: চাকরি পেতে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ, ‘আন্দোলনের মুখ’ ববিতাকে বরখাস্তের নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের
গৃহবধূ পক্ষের আইনজীবী শ্যামপ্রকাশ গুপ্ত জানান, পারভীনের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে ‌হঠাৎ দাম্পত্য কলহের জেরে আফরিনকে মারধর করে জিয়া। শুধু তাই নয়, লন্ডনের বাড়ি থেকে স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেয় জিয়া। দুই নাবালক পুত্রকে নিয়ে আফরিন দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি সুবিচার জন্য মালদা আদালতে দ্বারস্থ হন।

স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের মামলা করেন তিনি। তাঁদের এখনও ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেনি। ১১ মাস আদালতে মামলা চলার পর মালদা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মৃণালকান্তি মণ্ডল বধূর পক্ষে নির্দেশ দেন।

Calcutta High Court : ‘অবৈধ’ বিয়ে বাতিল কোর্টে, তবু ভাঙার পথে ‘বৈধ’ ঘর
তিনি জানান, ২ নাবালক পুত্র সন্তান ও স্ত্রীর ভরণ পোষণ বাবদ প্রতিমাসে জিয়াকে আড়াই লাখ টাকা করে দিতে হবে। আড়াই লাখ টাকার মধ্যে স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য দু’লাখ টাকা এবং নাবালক দুই সন্তানের জন্য ২৫ হাজার করে মোট পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে হবে। সব মিলিয়ে মোট আড়াই লাখ টাকা ভরণপোষণ বাবদ নির্ধারিত করে দেয় আদালত।

এই প্রসঙ্গে পারভীনের আইনজীবী শ্যামপ্রকাশ গুপ্ত বলেন, ভরণপোষণ মামলায় এত টাকা দেওয়ার নির্দেশ মালদায় রেকর্ড। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই খুশি পারভীন। তিনি জানান, লন্ডনে জিয়া তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে দেন। সেখানে গিয়ে তাঁর ব্যবহারেও আমূল বদল আসে। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েন।

Babita Sarkar News: ‘আগেই কেন বললেন না…’, চাকরি হারিয়ে হাউ হাউ করে কাঁদলেন ববিতা
দেশে ফিরে সন্তানদের কী ভাবে মানুষ করবেন তা নিয়ে রীতিমতো আতান্তরে পড়েছিলেন তিনি। এরপরেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন আইনি লড়াই লড়ার। আদালতে তাঁর পক্ষে গিয়েছে নির্দেশ। স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়েছেন তিনি।

পারভীনের কথায়, “আমি বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রেখেছিলাম। কোনওভাবেই ভেঙে পড়েনি। আমি সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। ওদের জন্য নতুন করে বাঁচতে হবে।” জিয়ার পরিবারের কোনও সদস্যের প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *