Kalighater Kaku : সম্পত্তি, তিন কোম্পানির লেনদেনেও নিয়োগ দুর্নীতি? – three mobile phones of businessman santu gangopadhyay are under scrutiny in school recruitment scam case


এই সময়: স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার নজরে ব্যবসায়ী সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের তিনটি মোবাইল ফোন। এর আগে এই মামলায় বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার দু’টি মোবাইল উদ্ধার নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। পুকুর ছেঁচে দু’টি মোবাইল উদ্ধার করেছিল ইডি। সেই দু’টি মোবাইল থেকে প্রচুর তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা হলেও পরবর্তী সময়ে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে সেখান থেকে অনেক তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী অফিসারদের।

Kalighat Kaku: কালীঘাটের কাকুর ‘ঘুম ভাঙাল’ ED, সাতসকাল বাড়িতে হানা গোয়েন্দাদের
তেমনই সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের যে তিনটি মোবাইল দিন কয়েক আগে সিবিআই বাজেয়াপ্ত করেছিল, সেখান থেকেও বেশ কিছু তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, আদালতের অনুমতি নিয়ে এই তিনটি মোবাইলই আজ, সোমবার দিল্লিতে সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে।

শনিবার আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বাড়ির পাশাপাশি আরও যে কয়েকটি জায়গায় হানা দেয়, তারমধ্যে সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ায়ের বাড়িও ছিল। বেহালায় সুজয়ের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বাড়ি এই সন্তুর। তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদও করেন তদন্তকারীরা।

Recruitment Scam In Bengal : রাজ্য জুড়েই সক্রিয় ছিল চক্র, কুন্তল-তাপসদের নামে চার্জশিট
নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত, হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার অয়ন শীল তাঁকে ২৬ কোটি টাকা দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই টাকার সঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতির যোগ আছে কি না এবং সন্তুর সঙ্গে এই মামলায় জড়িত কার কার যোগাযোগ ছিল–তা জানতে তাঁর মোবাইল থেকে মুছে ফেলা তথ্যগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার প্রায় ১৫ ঘণ্টা তল্লাশি চলেছিল গোপাল দলপতি বর্ণিত ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়ের বাড়িতে। সেখান থেকেও প্রচুর কাগজপত্র ইডির তদন্তকারীরা বাজেয়াপ্ত করেছেন। সূত্রের দাবি, তল্লাশিতে সুজয়কৃষ্ণের এক ডজন সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। সেই সম্পত্তিগুলির সঙ্গেও নিয়োগ দুর্নীতির কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইডি।

Recruitment Scam : পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কেন CBI? রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য
তদন্তকারীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, তিনটি কোম্পানির আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্রও মিলেছে। সেগুলির সঙ্গে সুজয়ের কোনও যোগ আছে কি না, নথিপত্র যাচাইয়ের পর তা নিয়ে নিয়ে ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। যদিও শনিবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে ইডি বেরিয়ে যাওয়ার পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুজয় বলেন, ‘বেহালায় আমার একটা বাড়ি, একটা সম্পত্তি, আর একটা পৈতৃক বাড়ি আছে। এছাড়া ফ্রেজারগঞ্জে পাঁচজন মিলে একটা ১০ কাঠার জায়গা কেনা হয়েছিল।

Recruitment Scam : নিয়োগ দুর্নীতিতে সংযোজিত চার্জশিট তিন মিডলম্যানের নামে
তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ আমার রয়েছে। এই সম্পত্তিটাও সমুদ্রের কাছাকাছি নয়। অনেকটা ভিতরে একটা গ্রামে।’ সাংবাদিকদের কাছে সুজয়কৃষ্ণের দাবি, দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি পর তাঁর একটি মোবাইল ফোন আর কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যান গোয়ন্দারা। তাঁর কথায়, ‘ওরা দেখল, ঘরে প্রচুর ওষুধ আছে। শাড়ি আছে, কম্বল রয়েছে। আর কিছু কাগজ–যেমন বাড়ির দলিল, ট্যাক্সের বিল, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এই সব দেখল। ১৫ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ভাগের এক ভাগ তল্লাশি হয়েছে। বাড়ির যত কাগজ সব খুঁটিয়ে দেখতে সময় লেগেছে। ছ’বার নথিপত্রের ফটোকপি করতে হয়েছে। খাওয়াদাওয়া করতেও সময় লেগেছে। তারপর প্রায় চারশো পাতার নথিতে আমার ও দু’জন সাক্ষীর সই করতেও অনেকটা সময় লেগেছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *