আয়োজন কমিটির সঙ্গে যুক্ত এক সদস্য জানান, অনুষ্ঠান শুরু আগে তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় নজরুল গীতিতে আপত্তি নেই কিন্তু মঞ্চে নজরুল ইলামের কোনও ছবি বা ব্যানার লাগানো যাবে না এবং তাতে মাল্যদানও করা যাবে না। অনুষ্ঠানের সমস্ত আয়োজন ততক্ষণে সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কলাকুশলী, অতিথিরাও হাজির হয়ে গিয়েছিলেন। ছোট ছোট পড়ুয়াদের কথা ভেবেই ওই শর্ত শুনেও অনুষ্ঠান বাতিল করতে পারেননি আয়োজকরা।
মন্দির কমিটির দেওয়া শর্ত মেনেই মঞ্চ থেকে বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের ছবি সরিয়ে নিয়েই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু অনুষ্ঠানের পর খোদ রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যায় ধর্মের ভিত্তিতে নজরুলের ছবি ব্রাত্য করে রাখার কথা সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মের ভিত্তিতে এভাবে নজরুলল ইসলামকে অচ্ছুত করে দেওয়ার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন নেটিজেনরা। সমালোচনায় সরব হন শ্রীচৈতন্যের শহরের প্রবীণরাও। এক শতাব্দী আগে যে কবির কলম থেকে বেরিয়েছে, ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মসুলমান’, ‘হে গোবিন্দ রাখো চরণে’র মতো ভক্তিগীতি থেকে শ্যামাগীতিও, তাঁকে এমন অসম্মান মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
এই প্রবল বিতর্কের চাপে পড়ে অবশেষে ক্ষমা প্রার্থনা শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য মিশনের। চিঠিতে মন্দির কমিটির যুক্তি দেয়, অজ্ঞতাবশত এই ভুল। চিঠিতে লেখা হয়েছে, আমার বিনীত নিবেদন, ”গত ২১ মে আমাদের মন্দিরে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি সাংস্কৃতির অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে রবীন্দ্রনাথ ও কাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যানার ছিল। আমরা অজ্ঞতাবশত সেটি সরিয়ে ফেলতে বলি। পরবর্তী সময়ে নবদ্বীপের সাংস্কৃতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নজরুল একজন সম্পূর্ণ ও সাম্প্রদায়িক মানুষ তিনি আমাদের সকলের কাছে নমস্য। বিষয়টি জানতে পেরে আমরাও বুঝতে পারি কাজটি ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় যাদের মনে আঘাত লেগেছে তাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।” তাতেও ক্ষমাপ্রার্থনা সত্ত্বেও বিতর্কের আগুন নিভছে না।
