অর্থাৎ এই দ্বীপের চারিদিক বিভিন্ন নদী দিয়ে ঘেরা আর মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে কলকাতা থেকে বাসন্তী হাইওয়ে, সুন্দরবনের গদখালী পর্যন্ত। মসজিদবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ বেহাল নদীবাঁধ। এই পঞ্চায়েতের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ তারা দুয়ারে সরকারের বিভিন্ন পরিষেবা পেয়ে থাকলেও তারা এখনও পর্যন্ত আবাস যোজনার ঘর পাননি।
বেশিরভাগ এখানকার বাসিন্দারা দুয়ারে সরকারে আবাস যোজনা ঘরের দরখাস্ত করেছেন। কৃষক বন্ধু কিছু কিছু মানুষ পেয়ে থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ এখনও কৃষক বন্ধু ভাতা পাননি। এই পঞ্চায়েতের বেশিরভাগ বাসিন্দাদের ঘূর্ণিঝড় এলে খুব দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।
তারা চান অন্যান্য পরিষেবা দূরে থাক, যেহেতু তাদের নদীর ধারে বাস, কোনও ঝড় ঝাপটা এলে তাদের যাতে আতঙ্কে না থাকতে হয় তার জন্য অন্তত নদীবাঁধের কাজটুকু মাটি ও বাঁশ দিয়ে যেন একটু মেরামত করে দেওয়া হয়l এই বিষয়ে উপপ্রধান গৌর সর্দার জানান, “বসতি এলাকায় যে দীর্ঘ নদীবাঁধ রয়েছে সেগুলো যাতে কংক্রিটের নদীবাঁধ করে দেওয়া হয় তার জন্য রাজ্য সরকার ও সেচ দফতরের কাছে অনেক বার আমরা আবেদন নিবেদন করেছি।
মূলত পঞ্চায়েতে যেটা সমস্যা এখানে এই বেহাল নদীবাঁধ। ঘূর্ণিঝড়ের আগে এখানকার মানুষেরা এতটাই আতঙ্কে থাকেন যে তারা খাওয়া-দাওয়া ভুলে নিজেরাই পুরুষ ও মহিলারা মিলে মাটি দিয়ে বাঁধের কাজ নিজেরাই করে নেন”। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই অঞ্চলে মানুষদের পানীয় জলের খুব সমস্যা রয়েছে।
এই গরমের সময় গভীর নলকুপের জল স্তর নেমে যাওয়ায় অনেক দূর থেকে জল নিয়ে আসতে হয়”। মসজিদ বাটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এই সমস্যা দূরীকরণ করার জন্য প্রতি বুথে বুথে খাবার জলের ড্রাম পৌছে দেয় সকাল বিকেলে। পঞ্চায়েত প্রধান গৌড় সর্দার আরও জানান, “জলের সমস্যা একটা রয়ে গিয়েছে।
জলের ড্রাম দিয়ে আমরা বিভিন্ন বুথে বুথে দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমরা স্থায়ী সমাধানের জন্য জায়গায় জায়গায় বুস্টার পাম্পিং স্টেশন করার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি”। খুব শীঘ্রই এই আবেদন মঞ্জুর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
