খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। পরে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠায়। এদিকে কী কারনে ওই শ্রমিক আত্মঘাতী হলেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, জগদীশবাবুর দুই সন্তান রয়েছে৷ একজন ক্লাস ফাইভ ও অন্যজন ক্লাস সিক্সে পড়াশোনা করে৷ মাস দেড়েক আগে ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি আসেন জগদীশ। তারপর থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন তিনি। এদিকে সন্তানদের টিউশন ফি প্রায় তিন চার মাসের বাকি রয়েছে৷
টিউশন স্যারের তরফে টাকা চাওয়ায় সন্তানরা টিউশনে যেতেও চায় না। প্রায় রোজদিনই কাজের টাকায় মদ্যপান করতেন জগদীশ। গত রবিবার কাজের টাকা পাওয়ার পর থেকেই সেই টাকায় মদ্যপান করছিলেন জগদীশ। গতকাল এই নিয়ে স্ত্রী বকাবকি করেন জগদীশকে। ঘটনায় দুজনে বচসায় জড়িয়ে পরেন।
অভিযোগ, স্ত্রীকে মারতে যান জগদীশ। যা নিয়ে অন্যরাও বকাবকি করেন। এরপর রাতেই বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। সকালে বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই বিষয়ে মৃতের দাদা নিত্যানন্দ রায় বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বচসা লেগে থাকত।
ভাইপোদের টিউশনের টাকা দিয়ে মদ্যপান করত সে। এই নিয়ে তাঁর স্ত্রী বকাবকি করে। এরপরই আত্মহত্যা করে সে”। এই কারণেই আত্মহত্যা করেছে বলে অনুমান করছেন। এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য পরিমল রায় বলেন, “ছেলেদের টিউশনের টাকা দিয়ে নেশা করত। রোজ নেশা করার জন্য সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত।
এদিকে ছেলেদের টিউশনের টাকা না দিয়ে সে টাকায় নেশা করত সে। তা নিয়েই বকাবকি করেছিল স্ত্রী এবং অন্যরাও। বকাবকি করার কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন”। অন্যদিকে এই বিষয়ে গঙ্গারামপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে তারা দেহটি উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
