Lakhir Bhandar: লকডাউনে কাজ হারিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাতেই নতুন দিশা সাঁতরা পরিবারের – khardah satra family starts new business of flower with the fund of lakhir bhandar


লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থে শুরু হওয়া ব্যবসায় বর্তমানে প্রতিদিন আয় ২০০-৩০০ টাকা যা তিনজনের সংসার ভালোভাবে চলে যায়। ২ বছর আগে রাজ্য সরকার মহিলাদের কথা চিন্তা করে,মহিলাদের হাত খরচের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিল । রাজ্যের মহিলারা এই ৫০০ টাকা পেয়ে খুশি এবং অনেকেই উপকৃত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে খড়দহ বিধানসভার পাতুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দীপালী সাঁতরা সকলের জন্য অনুপ্রেরণা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পাওয়া ৫০০ টাকা পুঁজি দিয়ে নতুন ব্যবসায় শুরু করেছেন তিনি।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা করে জমিয়ে শুধু সংসার খরচ নয়, শুরু করেছেন নিজের একটি ফুলের দোকান। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাওয়া অর্থে শুরু হওয়া ফুলের দোকান থেকে বাড়তি লক্ষ্মী লাভ করছেন দীপালী সাঁতরা। যাতে তাঁর সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। চাহিদা বাড়তেি দোকানের কাজ স্বামী ও ছেলের হাতে তুলে দিয়েছেন দীপালী দেবী।

Nabanna : জেলায় প্রতি মাসে ‘ব্যাঙ্ক সম্পর্ক দিবস’, নির্দেশ নবান্নর

কীভাবে শুরু এই ব্যবসা?

তিনজনেই ভাগ করে নিয়েছে দোকানের কাজ। স্বামী দোকানে বসে,ছেলে হাওড়া মার্কেট থেকে ফুল নিয়ে আসে এবং দীপালী দেবী তা বাড়িতে বসে মালা গেঁথে তৈরি করে দোকানে বিক্রির জন্য পাঠায়।ছেলে আবার অর্ডার অনুযায়ী সেই ফুল হোম ডেলিভারি দেয়। তবে শুরু, কীভাবে হল? করোনায় আচমকাই দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গাড়ি চালানোর কাজ বন্ধ হয়ে যায় স্বামী দিলীপ সাঁতরার। লকডাউনের সময়ে আয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে সাঁতরা পরিবার।

Dakshin Dinajpur : হাসপাতাল থেকে হঠাৎ ফোন! ৫ বছর আগে নিখোঁজ ছেলেকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা-বাবা

দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে ভিনরাজ্যে কাজ করে,সে যায় আয় করে তাতে তার নিজের কোনরকম চলে যায়। সংসার কীভাবে চলবে তা কুলকিনারা খুঁজে পায় না সাঁতারা পরিবার। সেইসময় পাতুলিয়া এলাকায় দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফ্রম দেওয়া হচ্ছিল।সেখানে ফ্রম ফিলাপ করলে ৫০০ টাকা করে পাওয়া যেতে পারে।দীপালী দেবী এই খবর পেয়ে ছেলেকে বলে ফ্রম আনার জন্য। ফ্রম ফিলাপ করে জমা দিতেই চালু হয় মাসিক ৫০০ টাকা হাত খরচের অ্যাকাউন্ট লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। সেই টাকা ৫ মাস জমানোর পরেই দীপালিদেবী ছেলেকে বলে একটি ফুলের দোকান করতে,যার খরচ তিনিই দেবেন।

Odisha Train Accident : ‘পাকা বাড়ি থাকলে…’, ছেলের ছবি বুকে নিয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় পরিবার

সংসারের হাল ধরতে শুরু হয় দীপালী সাঁতরার পরবর্তী লড়াই ।দোকানের নাম কি দেওয়া হবে? দীপালী দেবীই নাম ঠিক করেন “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফুল”। যে টাকা থেকে এই লক্ষ্মী লাভের দিশা। সেই ব্যবসায় আজ ভালো ভাবে তিনজনের সংসার চলছে। এর জন্য সবসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ দিতে ভুল করেন না সাঁতরা পরিবার।ছেলে সুরজিৎ সাঁতরা মায়ের এই চিন্তাভাবনা এবং সহযোগিতায় গর্ববোধ করেন।

World Environment Day : ‘পরিবেশকে বাঁচাতেই হবে…’, জমানো টাকা দিয়ে ১০০ গাছের চারা কিনে বিতরণ হাওড়ার অনুসুয়ার

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফুল

এই দোকানে সপ্তাহে দুদিন ফেলে পুজোর ফুল,বাকিদিনগুলি জলের বোতল,ছাতুর শরবত সহ অন্যান্য জিনিস পাওয়া যায়।দিপালী দেবী মনে করেন তাকে দেখে এই বাংলার আরও মহিলারা এগিয়ে আসবে, তারাও দিদির দেওয়া এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থে স্বনির্ভর হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের হাত খরচের জন্য দিয়েছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সেই সামান্য অর্থেও নিয়েও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার জলজ্যান্ত প্রমাণ পাতুলিয়ার দীপালী সাঁতরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *