Presidency University : ‘প্রকাশ্যে চুমুর অধিকার চাই, মদন মিত্রের নো এন্ট্রি! পালটা নির্দেশিকা জারি প্রেসিডেন্সির পড়ুয়াদের – presidency university students issues code of conduct for authorities


বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ‘প্রেম করা যাবে না’! জারি কড়া ফতোয়া। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছে পড়ুয়ারা। যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। এবার পালটা কর্তৃপক্ষের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশাবলী জারি করল প্রেসিডেন্সির পড়ুয়ারা।


পড়ুয়াদের জারি করা নির্দেশাবলী

১) পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা না করে এই ক্যাম্পাসে কোনওধরণের নির্দেশিকা জারি করা কিংবা পড়ুয়াদের উপর তা চাপিয়ে দেওয়া চলবে না।

২) এমন কোনও কমিটি গঠন করা যাবে না যা ক্যাম্পাসের মধ্যে একজন পড়ুয়ার গণতান্ত্রিক পরিসর নষ্ট করবে। কোনওভাবেই পড়ুয়াদের মিটিং মিছিল আয়োজন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

৩) কোন বিষয়টি অনুচিত, কোনটি বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কিংবা আনুষ্ঠানিক নয়, তা নিয়ে কোনও মানদণ্ড থাকা উচিত নয়।

৪) যৌন হেনস্থায় অভিযুক্তদের কর্তৃপক্ষের তরফে আড়াল করা যাবে না।

৫) রাজনৈতিক অপরাধীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। উদাহরণ স্বরূপ মদন মিত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :
Srijit Mukherji : ‘কলেজে প্রেম করবে না তো কী…’, প্রেসিডেন্সি বিতর্কে কটাক্ষ প্রাক্তনী সৃজিতের

৬) কোনওভাবেই ক্যাম্পাসের ভিতর গণতান্ত্রিক পরিসর ক্ষুন্ন করে কোনও ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ভিডিয়ো কিংবা অডিয়ো রেকর্ড করা যাবে না। এমনটা হলে তা কোড অফ কনডাক্টের চূড়ান্ত বিরোধিতা হিসেবে ধরা হবে।

৭) ছাত্র ছাত্রীদের শৃঙ্খলাপরায়ণ করার নাম করে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না।

৮) প্রকাশ্যে ধূমপান, চুমু খাওয়া কিংবা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ানোর অধিকার দিতে হবে। কারণ এই বিষয়গুলি আইনের চোখে অপরাধ নয়।

Holi : হোলি-প্রিয় পাকিস্তানিদের ভারতে যাওয়ার নিদান! প্রতিবেশী দেশে নিষিদ্ধ হল রঙের উৎসব
উপরের আটটি পয়েন্ট উল্লেখ করার পর প্রেসিডেন্সির ছাত্র ছাত্রীরা এই নির্দেশিকায় লিখেছেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রবৃন্দের পিতৃরূপ ধারণ করা নিষিদ্ধ!’ অর্থাৎ ক্যাম্পাসের ভিতর গণতান্ত্রিক পরিসর রক্ষার্থে কোনওভাবেই যে তাঁর মরাল পুলিশিং চাইছেন না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

Presidency University

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোহ করল পড়ুয়ারা। ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রেম করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।

উল্লেখ্য, ছাত্র ছাত্রীদের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ছিল, প্রেসিডেন্সিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা প্রেম করলেই চলছে ধরপাকড়। এমনকী প্রেমিক-প্রেমিকার অভিভাবকদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। ক্যাম্পাসে প্রেম করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কর্তৃপক্ষের তরফে। এমনকী জোর করে কাউন্সেলিং করানোর অভিযোগও উঠেছে।

Delhi University Murder: বচসার সময় ছুরি দিয়ে পরপর কোপ! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই পড়ুয়া খুন
যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি ক্যাম্পাসে ‘নীতি পুলিশি’-র যে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে তা মোটেও সত্যি নয়। কিন্তু ক্যাম্পাসে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা একান্তই ব্যক্তিগত। সেই কারণে পড়ুয়াদের সতর্ক করতে বিষয়টি তাঁদের অভিভাবকদের ডেকে জানানো হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে কিছু পড়ুয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Delhi Metro: প্রকাশ্যে স্বমেহন বা স্বল্পবাসে ইনস্টা রিলস! যাত্রী বিড়ম্বনা ঠেকাতে কড়া দিল্লি মেট্রো

এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী SFI নেতা শুভজিৎ সরকারের বক্তব্য, “বাইরের দুনিয়ায় কথা বলার, মতপ্রকাশ করায় বাধা বিপত্তি থাকলেও এখানে ওরকম নেই। তার বড় কারণ বাম এবং প্রগতিশীল মনোভাপন্ন একটা পরিসর। ছেলেমেয়েদের এভাবে এত খোলামেলা মেলামেশা অনেকেই দেখেনি। তাই অনেকেই শুরুতে এগুলো দেখে অবাক হলেও পরে বুঝেছে এটাই আদর্শ সমাজ যেখানে ছেলে মেয়েদের মধ্যে বিভেদ নেই। এই ক্যাম্পাস মিটিং, মিছিল, আন্দোলন, ঘেরাও দেখেই অভ্যস্ত। এটাই প্রেসিডেন্সি, দুশো বছরের ঐতিহ্য, সমাজের অন্ধকার দূর করার লড়াইয়ে সর্বসময় টর্চবিয়ারার হিসাবে নিজের ভূমিকা পালনের। কী কাগজ বের করেছে কোড ফোড!! হুর, ওসবের তোয়াক্কা প্রেসিডেন্সি করে নাকি। কাগজ দিয়ে প্রেসিডেন্সির মুক্তচিন্তার পরিবেশ আটকানো যায় না রে পাগলা…।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *