Pragya Dipa Halder : হঠাৎ বেপাত্তা! কৌশিকের চার বন্ধু কারা? খুঁজছে পুলিশ – after the arrest of the live in partner in the case of recovery of the body of doctor pragya dipa halder police are searching for his four friends


এই সময়, ব্যারাকপুর: ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্টের ম্যান্ডেলা হাউসের কোয়ার্টার থেকে চিকিৎসক প্রজ্ঞাদীপা হালদারের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত লিভ ইন পার্টনার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কৌশিক সর্বাধিকারীর চার বন্ধুর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ওই চার বন্ধু কারা, আদৌও তাঁরা বাংলাদেশি, নাকি অন্য কোনও পরিচয়ে এসেছিলেন তা জানতে মরিয়া তদন্তকারীরা।

Barrackpur Doctor Death Mystery: প্রজ্ঞাদীপার মৃত্যুর সময় কোথায় ছিলেন কৌশিক? রহস্যমৃত্যুর জট খুলতে ফরেনসিক
কেন তাঁরা একদিনের জন্য ব্যারাকপুরে এসেছিলেন এবং পরদিন সকালেই বেপাত্তা হয়ে গেলেন, সেই প্রশ্ন ভাবাচ্ছে পুলিশকে। তবে কি প্রজ্ঞার মৃত্যুর পিছনে বড় কোনও পরিকল্পনা ছিল? নাকি তদন্তের মোড় ঘোরাতে এবং নিজের উপর যাতে কোনও সন্দেহ না আসে তাই কৌশিকই তাঁদের ডেকে এনেছিলেন? তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওই চার জনের খোঁজ পেলে তদন্তের জট অনেকটাই কাটানো যাবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ম্যান্ডেলা হাউসের কোয়ার্টারে প্রজ্ঞাদীপার গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ উদ্ধার হয়। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্নও পেয়েছিল পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় সেনাবাহিনীর ডাক্তার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল কৌশিক সর্বাধিকারীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, কৌশিক জেরায় জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তাঁর চার বাংলাদেশি বন্ধু ব্যারাকপুরে এসেছিলেন।

Barrackpore Murder Case: দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন! তরুণী চিকিৎসক প্রজ্ঞাদীপার মৃত্যুতে গ্রেফতার লিভ-ইন পার্টনার
সকালে তিনি ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্টের বেস হাসপাতালে ডিউটি সেরে বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে ব্যারাকপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখান। পুলিশের কাছে কৌশিকের দাবি, সোমবার সারাদিন তিনি ম্যান্ডেলা হাউসেই ঢোকেননি। বন্ধুদের নিয়ে ব্যারাকপুরের বিভিন্ন জায়গা ঘোরেন। রাতে বন্ধুদের ব্যারাকপুর ধোবিঘাট সংলগ্ন কেন্দ্রীয় অন্তর্দেশীয় মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের গেস্ট হাউসে রেখে তবে ঘরে ফেরেন। তখনই তিনি প্রজ্ঞাকে ওই অবস্থায় দেখতে পান।

Barrackpur Doctor Death Case: প্রজ্ঞাদীপা হালদারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ কী? মুখ খুলল পুলিশ
এখানেই কৌশিকের চার বন্ধুর বয়ান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে পুলিশ মনে করছে। কৌশিক আদৌও ব্যারাকপুরের ইতিহাস ঘুরে দেখাতে ওই দিন বিকেলের পর বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়েছিলেন কি না তা খোঁজ নিয়ে দেখছে পুলিশ। ব্যারাকপুরের গান্ধী ঘাট, মঙ্গল পান্ডে উদ্যান, অন্নপূর্ণা মন্দির-সহ যে সব ঐতিহাসিক স্থানে কৌশিক গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করছে। ওই ফুটেজের সঙ্গে কৌশিকের বয়ান যেমন মেলানো হবে, তেমনই চার বন্ধুর হদিশ পেলে অনেক তথ্যই সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যে গেস্ট হাউসে ওই চার বন্ধু ছিলেন, সেখানে এসেছিলেন কৌশিক। সূত্রের খবর, গেস্ট হাউসে তাঁকে হাফ প্যান্টে দেখা গিয়েছিল। তা হয়ে থাকলে প্রশ্ন ওঠে, ডিউটি সেরে যদি কৌশিক ম্যান্ডেলা হাউসে না-ই গিয়ে থাকেন, তা হলে হাফ প্যান্ট পরলেন কখন এবং কোথা থেকে? ও দিকে ম্যান্ডেলা হাউসের যে ঘর থেকে প্রজ্ঞার দেহ উদ্ধার হয়েছিল সেই ঘরে একটি মদের বোতল পায় পুলিশ।

Uttar 24 Pargana News : ব্যারাকপুরে মহিলা চিকিৎকের রহস্যমৃত্যু কাঠগড়ায় লিভ-ইন পার্টনার! অভিযুক্ত সেনার ডাক্তার
তাতে অর্ধেকের বেশি মদ খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। পুলিশের অনুমান, একজনের পক্ষে একসঙ্গে অতটা মদ খাওয়া সম্ভব নয়। তবে কি অন্য কেউ সেদিন কৌশিকের ম্যান্ডেলা হাউসের ঘরে মদের আসরে সঙ্গী হয়েছিলেন? সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গেস্ট হাউস নিজের নামে বুক করেছিলেন কৌশিক। তাঁর বন্ধুদের কোনও পরিচয়পত্রই নিয়ে রাখেনি রিসেপশন।

ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অলোক রাজোরিয়া বলেন, ‘মৃত তরুণীর পরিবারের অভিযোগ যেমন আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি, তেমনই ঘটনায় ধৃত কৌশিক সর্বাধিকারীর চার বন্ধুর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই মতো বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *