সুতপা সেন: মোট ১,১৩৭ কোম্পানি বাহিনীতে পঞ্চায়েত ভোট! পঞ্চায়েতে বাহিনী মোতায়েন নিয়ে এদিন ফের এডিজি আইন-শৃঙ্খলা, ডিজি ও মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় যে ভোটে রাজ্য পুলিস থাকবে ৬৫ হাজার। কলকাতা পুলিস থাকবে ১৫ হাজার। অর্থাত্ মোট ৮০ হাজার বাহিনী দেবে রাজ্য।
এখন কলকাতা পুলিসে মোট বাহিনী আছে ২০ হাজার। এখন তার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার বাহিনী দিতে পারবে কলকাতা পুলিস। এখন রাজ্য মোট ৮০ হাজার বাহিনী দিচ্ছে মানে, রাজ্যের তরফে পঞ্চায়েত ভোটে থাকছে ৮০০ কোম্পানি। ওদিকে কেন্দ্র বাহিনী পাঠিয়েছে ৩৩৭ কোম্পানি। অর্থাত, মোট বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে (৮০০+৩৩৭)= ১,১৩৭ কোম্পানি।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই করাতে হবে পঞ্চায়েত ভোট। সুপ্রিম নির্দেশ। সেই নির্দেশের পরই কেন্দ্রের কাছে বাহিনী চায় কমিশন। তারপর বাহিনী এসে পৌঁছয় রাজ্যে। কিন্তু বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে কি থাকবে না, সেই নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন। বরং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ঘিরে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। তুঙ্গে বিতর্ক।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজিবা সিনহার বক্তব্য, এখন যে বাহিনী এসেছে, তা বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য। ভোটের দিনের জন্য নয়। ভোটের দিন কী করা হবে, বাহিনীর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে নির্বাচনের ৩ থেকে ৪ দিন আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বলাই বাহুল্য, কমিশনের এই বক্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। তবে কি হাইকোর্টের নির্দেশকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখাতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন? বিরোধীদের দাবিকে নস্যাত্ করতে চলেছে কমিশন?
প্রসঙ্গত, কমিশন প্রথমে চায় ২২ কোম্পানি বাহিনী। তারপর ৮০০ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে চিঠি পাঠায়। কারণ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, ২০১৮ সালের চেয়ে বেশি ও পর্যাপ্ত বাহিনী রাখতে হবে। কমিশনের ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র প্রথমে ৩১৫ কোম্পানি বাহিনী পাঠায়। তারপর ফের আরও ৪৬৫ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে চিঠি দিয়েছে কমিশন। যদিও, এই ৪৬৫ কোম্পানি বাহিনী নিয়ে এখনও কোনও কিছু জানায়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এখন সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদে। ১১ জেলায় CRPF, ৬ জেলায় CISF, ৯ জেলায় BSF পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কমিশনকে চিঠি দিয়ে সেটাই জানায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সবচেয়ে বেশি ভিন রাজ্যের বাহিনী আসছে উত্তরপ্রদেশ ও আসাম থেকে। দুই রাজ্য থেকেই ১০ কোম্পানি করে রাজ্য সশস্ত্র পুলিস আসছে ভোটের বাংলায়।
আরও পড়ুন, Firhad Hakim: ‘তব তেরা কেয়া হোগা রে কালিয়া’, চরম হুঁশিয়ারি ফিরহাদের…
