রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, , সোমবার দুপুর একটা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যান্ডেল স্টেশন ছাড়ার পর ইঞ্জিন ও বগির মধ্যে থাকা কাপলিং খুলে যায়। ফলে ট্রেনের ইঞ্জিনটি মূল বগি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতি কম থাকার কারণে বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। কোনও মানুষ হতাহত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ব্যান্ডেল স্টেশন ছাড়ার পর ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে আলাদা হয়ে যায় বগি। এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। কেউ কেউ আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু ট্রেনের গতি কম থাকার কারণে কোনও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। কাপলিং খুলে যাওয়ার পরই এই বিপত্তি বলে জানা গিয়েছে।
খবর পেয়ে রেলের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় কাজ। শেষমেশ কলকাতা-আজমগড় সাপ্তাহিক এক্সপ্রেসেপ খুলে যাওয়া কাপলিং মেরামতি করা সম্ভব হয়েছে। কাপলিং মেরামতির পর ফের বেলা ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ গন্তব্যের দিকে রওনা দেয় ট্রেনটি।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, ‘দুপুর ১টা নাগা ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছে আজমগড় সাপ্তাহিক এক্সপ্রেসের কাপলিং খুলে বিপত্তি ঘটেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে কাপলিং মেরামতি করে ট্রেনটিকে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। যাত্রীরা সুরক্ষিত রয়েছেন। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও গাফিলতির কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকলে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২ জুন ওডিশার বালেশ্বরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শালিমার থেকে চেন্নাাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। সিগন্যালিং সিস্টেমের ত্রুটি ও রেলকর্মীদের গাফিলতির কারণে উলটো দিক থেকে আসা মালগাড়িতে ধাক্কা মারে ট্রেনটি। পাশের লাইন দিয়ে আসা হামসফর এক্সপ্রেসও এই দুর্ঘটনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সব মিলিয়ে মোট ২৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এই দুর্ঘটনায়। এই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন রেলকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
