WB Panchayat Vote 2023 : ভোররাতেও গ্রামবাংলার বুথে ভোটার, দশ বছর পর ফের ৮০% ভোট – from purba medinipur to paschim medinipur nadia people stood in queues till night to vote in many districts election 23


এই সময়: ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রামের একটি বুথে রবিবার ভোর সাড়ে চারটে পর্যন্ত ভোট দিয়েছে জনতা। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের একটি বুথে শনিবার রাত আড়াইটে পর্যন্ত, পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটের একটি বুথে আবার রাত দু’টো পর্যন্তও লাইন দিয়ে ভোট দিয়েছে জনতা। শুধু এই তিনটি জেলা নয়, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া–সহ আরও কয়েকটি জেলাতেও অনেক রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ ভোট দিয়েছে। শনিবার পঞ্চায়েত ভোটের দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কয়েকটি পকেটে হিংসা, অশান্তি, ব্যালট বাক্স জলে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনার পরেও সাধারণ মানুষ ঢেলে ভোট দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাজ্যে গড় প্রদত্ত ভোট ৮০.৭১ শতাংশে পৌঁছে গেল।

West Bengal Panchayat Repoll 2023 : সোমবার একাধিক জেলায় পুননির্বাচন, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট গ্রহনের আশ্বাস কমিশনের
পাঁচ বছর আগের যে পঞ্চায়েত ভোটকে বিরোধীরা প্রহসনের নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছিল, তার তুলনায় এই হার প্রায় চার শতাংশ বেশি। আর এক দশক আগে তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডের তত্ত্বাবধানে সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে যে ভোট হয়েছিল–এবারের ভোটদানের হার তার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ২০১৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিন দফার ভোটে প্রায় ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এবার গড় প্রদত্ত ভোট ৮১ শতাংশের মতো হলেও রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় ভোটদানের হার ৮৪ শতাংশেও পৌঁছে গিয়েছে।

West Bengal Panchayat Election 2023 : পালানো ছেড়ে প্রতিরোধ, নয়া ট্রেন্ড বিরোধীর
এবার ভোটের দিন রাজ্যে ১৮ জন হিংসার বলি হলেও যে সার্বিকভাবে প্রায় ৮১ শতাংশের মতো ভোট পড়ল, তা উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সাধারণ মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছেন। যদিও বিরোধীদের একাংশ আবার বলছেন, এই বিপুল ভোট শতাংশের মধ্যে শাসক দলের অনেক জায়গায় গা-জোয়ারি করে দেওয়া ছাপ্পা ভোটও রয়েছে। শনিবারের ভোটের পর ‘এই সময়’ই উল্লেখ করেছে, ভোটে হিংসা, রক্তপাত, প্রাণহানি হলেও সে সব অতিক্রম করে ভোটাররা রাতভর বুথে লাইন দিয়েছেন।

Panchayat Election 2023 : শনিবার ভোটপুজো নেই ক্যানিং ১ আর চোপড়ায়, ভাঙড়ে টিমটিম
রবিবার নির্বাচন কমিশন ভোটের যে সার্বিক হারের তথ্য জানিয়েছে, তাতেও সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট হলো। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অবশ্য মুর্শিদাবাদ জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়লেও সেখানে ঢালাও রিগিং হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। রবিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে দীর্ঘ চিঠিও দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। অধীরের কথায়, ‘ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। বুথ দখল, ছাপ্পা, ব্যালট ছিনতাই হয়েছে।’ তাই সেখানে মানুষের মত প্রতিফলিত হয়েছে বলে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছেন না। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, লাগামছাড়া ছাপ্পা ভোট দিয়েই কৃত্রিম ভাবে ভোট শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

West Bengal Panchayat Election 2023 : সেই ফোর্স কোথায়! এস্ত বুথে নিধিরাম বঙ্গ পুলিশ
রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘ভোটের আগের দিনে ব্যালট বাক্স নিয়ে গিয়ে ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয়েছে। তথাকথিত এই ৮০ শতাংশ ভোটে জলের পরিমাণই বেশি।’ তবে তিনিও মানছেন, ‘তার মধ্যেও যেখানে মানুষ পেরেছে ভোট দিয়েছে।’ অবশ্য ভিন্ন মত বাম নেতৃত্ব। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সিপিএমের হয়ে দায়িত্বে রয়েছেন সুজন চক্রবর্তী। শুভেন্দু অধিকারীর গড় এই জেলায় সর্বাধিক ৮৪.৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সুজনের বক্তব্য, ‘বুথ দখল, ভোট লুটের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু মানুষ প্রতিরোধ করে বহু জায়গায় ভোট দিয়েছে।

Governor CV Ananda Bose: জরুরি ভিত্তিতে দিল্লি রওনা রাজ্যপালের, গ্রাউন্ড জিরোর রিপোর্ট দেবেন বোস? জল্পনা
এই জেলায় ৮৪ শতাংশ ভোটে সবই জল মেশানো, তা বলা যায় না।’ তৃণমূল নেতৃত্বও বলছেন, কিছু এলাকায় বিজেপি গুন্ডামি করলেও মোটের উপরে মানুষ ভোট দিয়েছে। তাই এই জেলায় রেকর্ড ভোট পড়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের কথায়, ‘দুপুরের পর থেকে মানুষ ঢেলে ভোট দিয়েছে। অনেক রাত পর্যন্ত বুথে লাইন দেখা গিয়েছে। কিছু জায়গায় বিজেপি গুন্ডামি করলেও মানুষ না ভোট দিলে কখনও ৮৪ শতাংশের বেশি ভোট পড়তে পারে না।’ যদিও এই জেলায় বিজেপি নেতা, ভগবানপুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতির কথায়, ‘নন্দীগ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল, মানুষ ভোট দিতে পেরেছে। কিন্তু অন্য জায়গায় ভোট লুট হয়েছে। ছাপ্পা দিয়ে ভোট শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।’

Panchayat Election West Bengal: বল্গাহীন সন্ত্রাসের তুর্কিনাচ! পঞ্চায়েত ভোটে রক্ত দিয়ে হোলি খেলল বাংলা
ভোটদানের হার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা হিসাবে কেউ সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছায় ভোটদান, কেউ বা ছাপ্পার যুক্তি দিলেও ভোট বিশ্লেষকরাও মানছেন, সবটাই গা-জোয়ারি করে হয়েছে, সেটা হতে পারে না। ভোট বিশেষজ্ঞ বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর পর্যবেক্ষণ, ‘বিভিন্ন জেলা থেকে যে তথ্য আমার কাছে এসেছে, তাতে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর সহ ছ’টি জেলায় ভোট ঠিকঠাক হয়নি। তবে ভালো ভোট হয়েছে আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম, জলপাইগুড়ির মতো জেলাগুলিতে।’

North 24 Parganas Panchayat Election : ছাপ্পার ধান্দায় বোমা হাতে বুথে দুষ্কৃতীরা, প্রাণ বাঁচাতে দৌড় ভোট কর্মীদের! তারপর…
আজ, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছ’শোর মতো বুথে পুনর্নির্বাচন হবে। কাল, মঙ্গলবার ফল ঘোষণা। হিংসা, অশান্তির পরেও শনিবার রাত জেগে মানুষ যে ভোট দিলেন, তা আখেরে কোন পক্ষের মুখে হাসি ফোটায়, তার জন্য কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শনিবার গভীর রাত, কোথাও রবিবার ভোর পর্যন্ত বুথে জনতার লাইন থাকলেও হিংসার ঘটনা অবশ্য এদিনও ঘটেছে। ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে যাওয়ার পরেও কোনও কোনও জেলায় বোমাবাজি, গুলি চালনা, অগ্নিসংযোগের খবর এসেছে। সামশেরগঞ্জ ও নাকাশিপাড়ায় দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

Rajiva Sinha News : ‘ভোটে ১০ জনের মৃত্যু!’ পুনর্নির্বাচন নিয়ে কী উত্তর দিলেন রাজীব সিনহা?
মালদায় পুলিশের এক ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার আক্রান্ত হয়েছেন। বহু জায়গায় শাসক ও বিরোধী উভয়পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বাচন কমিশন থেকে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের বিরোধীপক্ষ অভিযোগ করেছে। শাসক তৃণমূল এই হিংসার জন্য বিরোধী শিবিরকে কাঠগড়ায় তুলেছে। চাপানউতোর চললেও পাঁচ-ছ’টি জেলার কিছু কিছু এলাকা বাদ দিলে বাকি জেলাগুলিতে মানুষ ভোট দিতে পেরেছেন বলে বিরোধীপক্ষের একাংশও মেনে নিচ্ছেন।

WB State Election Commission: ভুরি ভুরি অভিযোগ এসেছে, ১৫ শতাংশের কম ভোট পড়লে পুর্ননির্বাচনের ভাবনা: রাজীব
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের কারণে বিতর্কের শিরোনামে এসেছিল বীরভূম। এবার পূর্ব মেদিনীপুরের পরেই সব থেকে বেশি ভোট পড়েছে বীরভূমে। অনুব্রত মণ্ডলের জেলায় এবার জনতা ভোট দিতে পেরেছে বলে মেনে নিয়েছেন পোড়খাওয়া বিজেপি নেতা দুধকুমার মণ্ডলও। তাঁর কথায়, ‘২০১৮ সালের মতো হয়নি, এবার মানুষ ভোট দিতে পেরেছে।’ সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোমের বক্তব্য, ‘ছাপ্পা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু মানুষ প্রতিরোধের মেজাজে ভোট দিয়েছে।

Sukanta Majumdar: ‘একদিনে ১৫ জনের মৃত্যু…’, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ চেয়ে শাহকে চিঠি সুকান্তর
২০১৮ সালে ভোট দাঁড়াতেই দেওয়া হয়নি, এবার বহু জায়গায় লড়াই হয়েছে।’ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভোট শতাংশ কম হলেও সেখানে কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর ছাড়া বড় অশান্তির খবর নেই। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি প্রভৃতি জেলার দায়িত্বে থাকা তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলিতে সাধারণত ৭৮-৮০ শতাংশ ভোট পড়ে। এবারেও তাই হয়েছে। কোথাও কোনও অভিযোগ ওঠেনি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *