Covid 19 Virus : চিহ্নিত লং কোভিডের ‘ভিলেন’ – even though the corona is over the new addition is a gene named foxp-4


অনির্বাণ ঘোষ
করোনা-পর্ব মিটে গিয়েছে ঠিকই। কিন্তু এখনও অনেকে লং কোভিডের নাগপাশ থেকে মুক্ত নন। করোনা জয়ের পরেও ক্লান্তি, দুর্বলতা, জয়েন্টে-মাসলে ব্যথা থেকে শুরু করে ভুলে যাওয়া, চিন্তাভাবনা জট পাকিয়ে যাওয়া, এমনকী ডায়াবিটিস ও হৃদরোগের অবনতির পাশাপাশি স্নায়ু ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় জর্জরিত দুনিয়ার লাখো মানুষ। এবার এর ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত হলো ‘ফক্সপি-৪’ নামের একটি জিন।

Kailash Man Sarovar Yatra: এবার ভারত থেকেই সরাসরি মানস সরোবর, কবে শুরু কৈলাস যাত্রা?
‘দ্য গ্লোবাল কোভিড-১৯ হোস্ট জেনেটিক্স ইনিশিয়েটিভ’ নামে ১৬টি দেশের বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ মঞ্চের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লং কোভিডের জন্য দায়ী জিনটি নতুন কিছু নয়, আদতে তা নাটের গুরু হিসেবে কলকাঠি নাড়ে সিভিয়ার কোভিড এবং কয়েকটি ফুসফুসের ক্যান্সারের নেপথ্যেও। কিন্তু কাদের শরীরে ওই জিনটির অস্তিত্ব মিলবে বা মিলবে না, তা আগাম বোঝা মুশকিল। এখন ফক্সপি-৪ নামের ওই জিনটি চিহ্নিত হওয়ায় চিকিৎসকমহল আশাবাদী, আগামী দিনে সম্ভাব্য লং কোভিডের শনাক্তকরণ ও সমাধানের পথও নাগালে আসবে।

Chandrayaan 3 Live Video : নতুন কক্ষপথে পা, চাঁদের আরও কাছে পৌঁছল চন্দ্রযান! সুখবর শোনাল ISRO
লং কোভিডের সমস্যা নিয়ে বিশ্বের অসংখ্য মানুষ আজও ভুগে চলেছেন। অবশ্য সকলের নয়, কারও কারও ক্ষেত্রে এটি বেশি স্পষ্ট। এর সঠিক কারণ নিয়ে চিকিৎসক তথা বিজ্ঞানীমহল এত দিন অন্ধকারে ছিলেন। এবার সেই রহস্যের কিছুটা হদিশ দিল বর্তমান এই গবেষণা। যে গবেষণাপত্রটি প্রি-প্রিন্ট প্রিভিউ হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন মেডিক্যাল আর্কাইভে প্রকাশিত হওয়ামাত্রই তা রিপোর্ট করেছে ‘নেচার জার্নাল’-এর মতো বন্দিত বিজ্ঞাপত্রিকা।

Genome Editing : ফিরছে জুরাসিক যুগ? অতীতের কবড় ফুঁড়ে উঠে আসবে প্রাচীন দৈত্য!
গত তিন বছর ধরে গবেষণাটি চালানো হয়েছিল ইউএসএ, কানাডা, মেক্সিকো, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক, ইরান, জাপান, চিন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার ১৬টি দেশের ৬,৪৫০ জন লং কোভিড রোগীর উপর। তাঁদের সঙ্গে তুলনামূলক ফারাক বিশ্লেষণের জন্য গবেষণায় সামিল করা হয়েছিল ১০,৯৩,৯৯৫ জন সুস্থ মানুষকেও। লং কোভিডে আক্রান্তদের প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, ফক্সপি-৪ নামের জিনটি বেশি সক্রিয় যার জেরে লং কোভিডের আশঙ্কা ১.৬ গুণ বেড়ে যাচ্ছে। সুস্থদের তুলনায় তাঁদের প্রায় সকলেরই হয় ফুসফুস অথবা কিডনি কিংবা অন্যান্য অঙ্গের কোষে উপস্থিত ফক্সপি-৪ অতিসক্রিয়।

Influenza B Virus : ঘরে ঘরে জ্বর, নেপথ্যে দাপট ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি’র
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ফক্সপি-৪ যে সিভিয়র কোভিড তৈরি করা ছাড়াও লাং ক্যানসারের জন্যও দায়ী, সেটা জানা ছিল। কিন্তু এই গবেষণা দেখাল, ওই একই জিন লং কোভিডের জন্যও দায়ী। তাই এই ফলাফল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। কেননা, এই আবিষ্কারকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ জোরাদার মনে করেন, কারণ যখন চিহ্নিত করা গিয়েছে, তখন আশা করা যায়, আগামী দিনে লং কোভিডের চিকিৎসাও নাগালে চলে আসবে। তখন লং কোভিডকে মোকাবিলা করা সহজ হবে।

Snake Bite : স্নেক বাইট! আগে এভিএস, আর কিছু দেখার দরকার নেই
সিদ্ধার্থ বলেন, ‘ভবিষ্যতে ফক্সপি-৪ জিন চিহ্নিত করার উপযোগী সহজ ডায়াগনস্টিক কিট এবং ওই জিনের প্রোটিনের বিরূদ্ধে কার্যকরী ওষুধ বাজারে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।’ একই সুর আর এক ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ সৌরীশ ঘোষ বা ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞ দীপ্যমান গঙ্গোপাধ্যায় অথবা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অলোকেশ কোলের গলাতেও। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এখনই হয়তো এই গবেষণার লাভ চোখে দেখতে পাবেন না লং কোভিডের শিকার রোগীরা। কিন্তু আগামী দিন যথেষ্ট উজ্জ্বল।

NASA Praises Pakistan Girl: চোখে দিলেই উবে যাবে ঘুম! পাক কিশোরীর হাতে গড়া চশমা দেখে হতবাক NASA
অলোকেশ জানাচ্ছেন, লং কোভিডের রোগী এখনও তিনি নিয়মিত পান। এখন স্পষ্ট, এর পিছনে রয়েছে জিনের খেলা। সৌরীশের কথায়, ‘সিভিয়ার কোভিড হলেই যে লং কোভিড হবে, তার কোনও মানে নেই। আবার মৃদু উপসর্গ ছিল মানেই যে লং কোভিড হবে না, সে কথাও বলা যায় না। ভাইরাসের জিনোমের অবশেষ রয়ে যাচ্ছে যাঁদের শরীরে, লং কোভিড হচ্ছে তাঁদেরই। এঁদের ফক্সপি-৪ জিনও সক্রিয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *