ঘটনা হলো, যাদবপুরে গত কিছুদিন ধরে একাধিক যৌন হেনস্থা এমনকী ধর্ষণের অভিযোগে এফআইআর পর্যন্ত হয়েছে। উঠেছে বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের উপর নির্যাতনের অভিযোগও। এ হেন হেনস্থা আটকাতে এবার তৎপর ভূমিকা নিয়েছেন পড়ুয়ারাই। সে কারণে সম্প্রতি কলা শাখার ছাত্রসংসদ আফসুর পক্ষ থেকে এক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়।
সেখানে সর্বসম্মত ভাবে পড়ুয়ারা অ্যান্টি হ্যারাসমেন্ট ডিক্লিয়ারেশনের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। যদিও তাঁরা চাইছেন কেবল কলা বিভাগ নয়, গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি শাখার সব ছাত্রছাত্রীদেরই এর আওতায় আনা হোক। ভর্তির সময় যেন পড়ুয়ারা কোর্ট পেপারে লিখে জানায় যে, সে কখনও কোনও ধরনের নির্যাতন বা হেনস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে না। যদি এমন কোনও ঘটনা সে ঘটিয়ে ফেলে তাহলে আইনত তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার ছাত্রী অহনা দাসের কথায়, ‘যাদবপুর প্রগতিশীল ক্যাম্পাস বলে পরিচিত হলেও এই সমাজের থেকে বাইরে নয়। তাই অনেক খারাপ প্রভাব এখানেও এসে পড়ে।’ অহনা জানান, ক্যাম্পাসে মহিলা, ছাত্রীদের উপর নির্যাতন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের হেনস্থা এমনকী দলিত পড়ুয়াদের উপর নানা ধরনের নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসছে। আর এক পড়ুয়া আকাশ গুপ্তর সংযোজন, ‘আমাদের ফ্যাকাল্টিতেই শুধু নয়। আমরা চাইব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিজ্ঞান শাখার পড়ুয়ারাও বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নিক।’ একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে জেন্ডার সেন্সেটাইজেশন, জিএসক্যাশ তৈরির ব্যাপারেও উদ্যোগী হওয়ার দাবি তুলেছেন পড়ুয়ারা।
যাদবপুর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারলেও রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু এর মধ্যে আপত্তির কিছু দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা তো এখন ভর্তির সময় অ্যান্টি র্যাগিং ডিক্লিয়ারেশন নিই। তাতে কাজও হয়। পড়ুয়ারা যদি মনে করেন এতে ওঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে তাহলে আমি আপত্তির কিছু দেখছি না।’
পড়ুয়াদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অধ্যাপকরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন্স স্টাডিজের অধ্যাপক ঐশিকা চক্রবর্তী বলেন, ‘অত্যন্ত সময়োপযোগী ন্যায্য দাবি। যৌন হেনস্থা-সহ যে কোনও নির্যাতন-হেনস্থার বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। এই দাবির মধ্যে একটা আইনি নিরাপত্তাও রয়েছে।’ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়ও এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এছাড়াও সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও পড়ুয়া থেকে কর্তৃপক্ষ সকলের পজিটিভ ভূমিকা নিতে হবে।’
