মালদা ও কোচবিহারে নারী নিগ্রহকে হাতিয়ার করে বিজেপি কয়েক দিন ধরেই তৃণমূলকে চেপে ধরতে চাইছে। রাজ্যের নারী নির্যাতন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে বুধবার বিধানসভায় প্রবল বিক্ষোভ দেখিয়ে ওয়াকআউট করেছিল গেরুয়া শিবির। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়ার পাঁচ নির্যাতিতাকে এই বিক্ষোভে হাজির করিয়েছিল বিজেপি।
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপির মুলতুবি প্রস্তাবের উপরে জবাব দিতে গিয়ে মমতা এদিন বলেন, ‘এই যে বিজেপি বলছে, রাজ্যে ধর্ষণ হচ্ছে, তাঁদের বলছি, মালদায় একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে চুরি করতে গিয়েছিল বলে শুনেছি। মেয়েরাই ধরেছে। পুলিশ কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।’ নির্দিষ্ট ভাবে কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়ির প্রসঙ্গ উল্লেখ না করে মমতা বলেন, ‘একটা বাচ্চা মেয়ে মারা গিয়েছে। এখনও কিছু অসামাজিক লোক রয়েছে। কিন্তু এখানেও সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে কোথাও এই ধরনের কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তের প্রোফাইল না দেখে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ঘটনা ঘটা আমার হাতে থাকে না। কিন্তু ঘটনা ঘটলে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ করতে বলা হয়। পুলিশকে পরিষ্কার বলা রয়েছে, কারও কথা শুনবেন না। সরাসরি পদক্ষেপ করবেন।’ তৃণমূল যেহেতু ‘ইন্ডিয়া’ জোটে সামনের সারিতে থেকে মণিপুরে নারী নিগ্রহ নিয়ে দিল্লিতে সরব হয়েছে, তাই গেরুয়া শিবির বাংলায় কোথায় কোথায় নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তা খুঁজে বের করে প্রচার করার কৌশল নিয়েছে।
শ্যামবাজারে অবস্থানেও বসেছে বিজেপির মহিলা মোর্চা। গেরুয়া শিবিরের এই কৌশল দেখে মমতা এদিন বলেন, ‘বিলকিস মামলার আসামীরা জামিন পেয়ে যায়। রেপ-কেসের আসামী ছাড়া পেয়ে যায়। বেটি জ্বালিয়ে বেড়াচ্ছেন! আপনাদের মুখে মা-বোনদের কথা মানায় না। মণিপুর থেকে নজর ঘোরাতে বাংলার বদনাম করছেন।’ নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানগত ভাবে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানের সঙ্গে বাংলার তুলনা করে পশ্চিমবঙ্গে অনেক সুরক্ষিত জায়গায় রয়েছে বলেও এ দিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
