ছেলে হয়েও মেয়েলি স্বভাবের জন্য ছোটবেলায় যাঁদের কাছে আরশিকে টিটকিরি শুনতে হত, তাঁরাই এখন শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তল্লিগুড়ির আরশি বর্তমানে কার্যত পুরোদস্তুর মুম্বইয়ের সেলিব্রিটি। তাঁকে নিয়ে গর্বের শেষ নেই পরিজনদের। তল্লিগুরির কৃষক পরিবারের সন্তান আরশি। মাধ্যমিক পর্যন্ত তল্লিগুড়ি হাইস্কুলে ও তারপর কোচবিহারের রামভোলা হাইস্কুল তেকে পাশ করেছেন উচ্চমাধ্যমিক। কোচবিহার কলেজে স্নাতক হওয়ার পর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
কোচবিহার থেকে মুম্বইয়ের জার্নি
আরশি জানান, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বুঝতে পারেন যে আর পাঁচজন ছেলের মতো তাঁর মানসিক পরিস্থিতি নয়। শারীরিকভাবে ছেলে হলেও মানসিকভাবে তিনি নিজেকে মেয়ে ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সচেতনতার অভাবে তাঁর এই বিষয়টিকে বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে পরিজনরা কেউই ভালভাবে মেনে নেননি। ফলে নানা জায়গায় অপমানিত হতে হত। কিন্তু তাতে থেকে থাকেননি আরশি। প্রতিকূলতাকে প্রতিহত করেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। প্রথমে কলকাতা ও তারপর পাড়ি দেন মুম্বই। সেখানে মডেলিং ও মেকআপ আর্টিস্টের কাজ শুরু করেন। একসময় সিদ্ধান্ত নেন সার্জারি করে পুরোপুরি রূপান্তরিত হবেন। ২০১৯ সালে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয় তাঁর। দীর্ঘদিন চিকিৎসার মধ্যে থাকার পর ২০২২ সালে সার্জারি হয়। এরপর ধীরে ধীরে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন আরশি। তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নানা বিউটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য মিলতে থাকে একের পর এক। গত ৭ এপ্রিল ‘মিস ট্রান্সকুইন ইন্ডিয়া’-র খেতাবও জিতে নেন তিনি। এখন আন্তর্জাতিক খেতাব পাওয়ার জন্য চলছে জোরকদমে প্রস্তুতি।
মুম্বইয়ে থেকে টেলিফোনে আরশি বলেন, ‘ছোটবেলায় অনেকেই আমাকে টিটকিরি করত। অনেক অপমান সহ্য করেছি। কিছু করার ছিল না। এখন ভাল লাগছে। আমার দিদি খুব সহযোগিতা করেছে। আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষরা যাতে সবসময় মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’
