পাঠ্যবইয়ে যে ইতিহাস পড়ে আমরা আমাদের অতীতকে জানি, আমাদের দেশকে চিনি, সেই ইতিহাসের জ্যান্ত দলিল, জীবন্ত সাক্ষী নূরজাহান বিবি। স্বাধীনতা আন্দোলন, ১৯৪৭ এ দেশ ভাগ, ও স্বাধীনতা লাভ থেকে ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, এরাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ১৯৭৮ সালে প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচনের সাক্ষীও থেকেছেন তিনি। এমনকি এরাজ্যে কংগ্রেস, যুক্তফ্রন্ট, বামফ্রন্ট থেকে ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সাক্ষীও এই প্রবীণ মানুষটি। স্বাধীন ভারতে প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দানের পাশাপাশি এবার তাঁর লক্ষ্য ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনেও নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।
ইন্দাস ব্লক এলাকার পাশাপাশি সম্ভবত বাঁকুড়া জেলারও একমাত্র শতোর্ধ্ব জীবিতা নূরজাহান বিবি। তাঁর বাড়িতে গিয়ে সংবর্ধনা জানালেন, ইন্দাসের বিডিও মানসী ভদ্র চক্রবর্ত্তী। তাঁর বাড়িতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন তিনি। নিজের কর্মজীবনে এই প্রথম শতোর্দ্ধা এক মহিলার সঙ্গে আলাপ করতে পেরে বেজায় খুশী বিডিও মানসী ভদ্র চক্রবর্ত্তী নিজেও। তিনি জানান, ‘নির্বাচন কমিশনের তরফে নূরজাহান বিবি সম্পর্কে ভেরিফিকেশনে পাঠানো হয়েছিল। ইন্দাসে ১০০ উত্তীর্ণ একমাত্র জীবিত তিনি। তাই আমরা ওঁর সঙ্গে কথা বলতে খোঁজ নিতে এসেছিলাম। ওঁকে একটু সংবর্ধনা দেওয়ারও ব্যবস্থা করেছিলাম।’
নুরজাহান বিবির ছেলে শেখ মনসুর আলিও গর্বিত মাকে নিয়ে। প্রশাসনের তরফে তাঁর মায়ের খোঁজ খবর নেওয়া হলো, সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট প্রশংসনীয় বলেই তিনি জানান। এখন সবে বয়স ১০৫। তবুও শরীরে মনে তারুণ্যের ছোঁয়া। লাঠি নিয়ে হাঁটলেও এখন হাঁটেন সোজা হয়ে। বয়সের ভারে চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হলেও মনে পড়েনি কোনও পরত। সজাগ, সচেতন নাগরিক হিসেবে আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে চান তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই আসছে তাঁর আরও এক জন্মদিন।
