Jadavpur University News : মায়ের আঁচলে নেই গোপাল, ফাঁসি চাইছে স্বপ্নদীপের বগুলা – swapnadeep kundu came to jadavpur university with dreams to study bengali but did not return what are the neighbours saying


এই সময়, বগুলা: বিজ্ঞান শাখার ছাত্র। কিন্তু স্নাতকস্তরে পছন্দের বিষয় বাংলা পড়তে চেয়েছিলেন, এবং সেটাও ভালো কোনও প্রতিষ্ঠানে। তাই বাবা-মা আপত্তি করলেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ায় ভর্তি হতে কালবিলম্ব করেননি স্বপ্নদীপ কুণ্ডু। দু’চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে নামী প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য গাঁয়ের ছেলে পাড়ি দিয়েছিলেন কলকাতায়। মাত্র দু’দিনের হস্টেলযাপন।

Jadavpur University: ‘খুব চাপে আছি…’, ফোনে মাকে বলার কয়েক ঘণ্টা পরেই দেহ উদ্ধার যাদবপুরের পড়ুয়ার
নিভে গেল বছর সতেরোর স্বপ্নের দীপ। তাঁর গ্রাম নদিয়ার বগুলার এখনও বিশ্বাস, আত্মহত্যা করেননি তাঁদের গ্রামের ছেলে। গ্রামের বাসিন্দারা ফাঁসি চান অভিযুক্তদের। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে মা স্বপ্না কুণ্ডু কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। কলকাতা থেকে ফিরে বাবা রামপ্রসাদ স্থানীয় থানায় হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন। ছেলে খুনের বিচার চান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, খুনই করা হয়েছে তাঁদের সন্তানকে।

JU Student Death: প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুতে র‌্যাগিংই কারণ? যাদবপুরের অধ্যাপকের পোস্টে চাঞ্চল্য
দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় স্বপ্নদীপ। বাবা-মা কৃষ্ণভক্ত বলে ছেলের নাম রেখেছিলেন গোপাল। বগুলার কলেজপাড়া এলাকায় স্বপ্নদীপদের বাড়ির নাম ‘মায়ের আঁচল’। স্থানীয় স্কুল থেকে এ বছর বিজ্ঞান শাখায় ভালো নম্বর নিয়েই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়বেন বলে বাংলা অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখান থেকে গবেষণা করে অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর।

Jadavpur University Student Death: ‘ফোনে বলেছিল অনেক কিছু বলার আছে…’, যাদবপুরে ছাত্রের রহস্যমৃত্যুতে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ পরিবারের
স্বপ্নদীপের বাবা রামপ্রসাদ কুণ্ডু স্থানীয় গাজনা গ্রামের একটি সমবায় সমিতির কর্মী। মা স্বপ্না আশাকর্মী। রবিবার রামপ্রসাদ কলকাতায় গিয়ে হস্টেলে রেখে এসেছিলেন স্বপ্নদীপকে। গিয়েছিল স্কুলপড়ুয়া ছোট ভাই রত্নদীপও।

বাড়ির লোকেরা জানান, বুধবার গভীর রাতে অন্য একটি নম্বর থেকে ফোনে বলা হয়, স্বপ্নদীপ ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন। স্বপ্নদীপের বাবা বলছেন, ‘ও আত্মহত্যা করতেই পারে না। র‍্যাগিংয়ের বলি হয়েছে আমার ছেলে। আমি ওদের ফাঁসি চাই।’ এদিন কলকাতা থেকে বাড়ি না ফিরে বিকেলে সোজা হাঁসখালি থানার আধিকারিকদের কাছে গিয়েও সেই আর্জি জানান তিনি।

Jadavpur University News : ‘নিজের হাতে গড়েছি ছেলেটাকে!’ স্বপ্নদীপের মৃত্যু কী ভাবে? তদন্ত চান স্কুলের প্রধান শিক্ষক
দিনভর মায়ের আঁচলে পড়শিদের ভিড় লেগেই ছিল। স্বপ্নদীপের সহপাঠী থেকে পাড়ার বন্ধু এমনকী, স্কুলের শিক্ষকেরাও এসে খোঁজ নিয়ে যান। শিক্ষকদের বক্তব্য, মেধাবী তো বটেই, অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র এবং সরল স্বভাবের ছাত্র ছিলেন স্বপ্নদীপ। একটা স্বপ্ন যে এ ভাবে নিভে যেতে পারে, ভাবতে পারছেন না কেউ। সকলে একটি কথাই বলছেন, ‘ওদের ফাঁসি ই’।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *